বরিশাল বিআরটিসির ম্যানেজার জুলফিকারের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট: October 6, 2026

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি::
বরিশালে বিআরটিসি ডিপোর ম্যানেজার জুলফিকারের বিরুদ্ধে ফ্রি ড্রাইভিং কোর্সের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে সরকারি অর্থায়নে ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ‘মোটরযান ড্রাইভিং ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ’ কোর্সের জন্য স্বজনপ্রীতি করেছেন তিনি।
জুলফিকার প্রশিক্ষণার্থীদের পরীক্ষায় পাস করানোর জন্য প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। ২০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে এ পর্যন্ত ৬ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তাছাড়া সরকারি অর্থায়নে ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০০ প্রশিক্ষণার্থীর অনারিয়ামের টাকায়ও ভাগ বসিয়েছেন তিনি।

বরিশালের নথুল্লাবাদে অবস্থিত বিআরটিসি ডিপোতে গিয়ে দেখা গেছে,মোটরযান ড্রাইভিংয়ের নামে জুলফিকার নিজেই কর্মচারীদের দিয়ে তেল চুরি করছেন। যা শুধুই লোক দেখানো কার্যক্রম, মাত্র। তাছাড়া জুলফিকারের নিজের সাজানো ভূয়া ডাক্তার দিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের স্বাস্থ্য সনদ দেওয়া হচ্ছে,এখানে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ,বরিশালের অখ্যাত নন গভার্মেন্ট অর্গানাইজেশন (এনজিও) কতৃক তৈরী এখানকার স্বাস্থ্য সনদগুলো। এনজিওর দেওয়া এসব স্বাস্থ্য সনদগুলোর অধিকাংশই আবার কম্পিউটার দ্বারা স্ক্যানিং করা। পাশাপাশি মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তি ও এখানকার কর্মচারীদের নামে ভুয়া হাজিরা দেখিয়ে ভাতা তোলারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা হলে বরিশাল বিআরটিসি ডিপোর ম্যানেজার (অপা:) মোঃ জুলফিকার আলী বলেন,মোটরযান ড্রাইভিংয়ের জন্য একজন প্রশিক্ষণার্থীর তিন মিনিটও সময় লাগেনা। তেল যেটুকু থেকে যায় তা কর্মচারীরা নিয়ে যায়। অবশিষ্ট তেল থাকলে তা সরকারকে ফেরত দিয়ে সাধু হতে চাই না।
ম্যানেজার (অপা:) মোঃ জুলফিকার আলী আরও বলেন,আমার কাছে বরিশালের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার ১ জন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকও ৩৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য একটি তালিকা পাঠিয়েছে। কি করবো,বলেন? তাছাড়া আওয়ামী লীগের কিছু ছেলেপানও এখানে প্রশিক্ষন নিচ্ছে,সব মিলিয়েই তো চলতে হবে।সবশেষে তিনি বলেন,প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে আমরা এখানকার কেউ টাকা নিচ্ছি না।

অন্যদিকে জুলফিকারের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা রিসিভ হয়নি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
সম্পাদকঃ শিকদার মাহবুব