আপডেট: November 9, 2023
স্টাফ রিপোর্টার::
মাদরাসা শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে নিজ স্ত্রী পারভীনের বিরুদ্ধে। তবে স্ত্রী পারভীনের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ার কারণে হত্যার ঘটনা ধামাচামা পড়ে রয়েছে। এদিকে খানজাহান আলী থানার ওসি মোঃ কামাল হোসেন বলেন,”আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বসতঘরের সঙ্গে বাথরুমের সামনে তার লাশ পাওয়া যায়। নিহতের স্বজনদের কোনো অভিযোগ ছিলো না। যে কারণে নিহতের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”
পারভীনের স্বামী নিহত খন্দকার আব্দুল মালেক(৫৭)। মালেক খুলনা জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট গিলাতলা আলিয়া মাদ্রাসার বিএসসিবিএড শিক্ষক ছিলেন। খুলনা ফুলতলা উপজেলার আটরাগিলাতলা শ্যামগঞ্জ কেডিএ আবাসিক এলাকার মৃত দিলবার খন্দকারের ছেলে সে। তিনি পেশায় শিক্ষক হলেও স্ত্রী পারভীনের সঙ্গে বিগত কয়েক বছর যাবত সংসারে বনিবনা হচ্ছিলো না। সাংসারিক ঝামেলার মূল রহস্য ছিলো চাচাতো ভাই কাওসারের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক।পরকীয়া প্রেমিকের জন্য মালেকের সাংসারিক জীবন একটা সময় দূর্বিষহ হয়ে ওঠে। এর আগে একাধিকবার প্রকাশ্যে ও ছলেবলে কৌশলে স্ত্রী পারভীন মালেককে হত্যা করার চেষ্টা করে। কিন্তু সে ব্যার্থ হয়। এসব ঘটনা পাড়াপ্রতিবেশি ও নিকট স্বজনরাও জানেন। সর্বশেষ গত শনিবার (৪ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে শিক্ষক মালেককে রক্তাক্ত অবস্থায় তার নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করে খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার মালেককে ব্রট ডেথ ঘোষণা করেন। মালেকের মরদেহ পোস্টমর্টেম রিপোর্ট করতে চেয়েছিলেন ওই হাসপাতাল কতৃপক্ষ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তা সম্ভব হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে ছোট ভাই খন্দকার সাহিদুল হত্যার বিষয়টি আচঁ করতে পারলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট করতে অনীহা প্রকাশ করেন। এক্ষেত্রে অন্য আত্মীয় স্বজনরা বাধা দিলেও কোনো কাজ হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে কথা হলে মালেকের ভগ্নিপতি গোলাম মস্তফা সেলিম বলেন, আমার শ্যালকের মাথায় তিন স্থানে, গলায়,বুকের দুইপাশে ছয় স্থানে ও দুই পায়ে ক্ষত চিহ্ন ছিলো। আর এসব চিহ্নই প্রমাণ করে এটা কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। এটা পূর্বপরিকল্পিত একটি হত্যাকান্ড। অন্যদিকে নিহতের স্ত্রী পারভীন বেগম বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ ছিলো। ঘুমানোর খাট থেকে ফ্লোরে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত লাগলে তার মৃত্যু হয়।






