আপডেট: October 7, 2026
রিপোর্ট,শিকদার মাহবুব::
সাধারন জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীরা বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলেই ভর্তি ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে এখানকার ডাক্তারদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে,দুপুরের পরে এমন হয়রানী ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
আজ বুধবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে এমন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বরিশাল নগরীর বাসিন্দা সোনিয়া আক্তার ও তার দুই বছরের মেয়ে শিশু ছোঁয়া।
সোনিয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন,আমার মেয়ের আজ সকাল থেকে সাধারন সর্দি ও জ্বর। সন্ধ্যার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে গেলে আমার মেয়েকে মেডিসিন ওয়ার্ডের জন্য ভর্তি লিখেন। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার অনুরোধ করলে দুই নারী চিকিৎসক আমাকে ফিরিয়ে দেন। এমনকি বলা হয় ভর্তি না করলে চিকিৎসা পাবেন না। পরে আমি চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় বাড়ীতে চলে আসি।
সোনিয়া আক্তার অভিযোগ করে আরও বলেন,যেসব ডাক্তার সাধারন সর্দি ও জ্বরের চিকিৎসা দিতে পারছে না,তারা তো এখানে এসে ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছেন।
হাসপাতাল পরিচালকের কাছে অনুরোধ করবো- এসব অকর্মণ্য ডাক্তারদের সরিয়ে ভালো ডাক্তার জরুরী বিভাগে নিয়ে আসুন। তা নাহলে দু-এক জন ডাক্তারের জন্য আমাদের বরিশাল মেডিকেলের সুনাম নষ্ট হবে। পরিনতিতে আমাদের অবস্থা হবে- জরুরী বিভাগে গেলেই রোগী ভর্তি।
এদিকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে দায়িত্বরত একাধিক ডাক্তার ও নার্স জানান,জরুরি বিভাগ থেকে দেদারছে রোগী ভর্তি করার কারনে আমরা ওয়ার্ডে ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা দিতে পারছিনা। কারন ওয়ার্ডের মধ্যে এসে রোগী ও তাদের স্বজনরা গ্যাদারিং সৃস্টি করে। এতে চিকিৎসা সেবার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে না, বরং চরমভাবে চিকিৎসা সেবার পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে!
হাসপাতালে কর্মরত একাধিক ব্রাদার বলেন, ১০ টাকার টিকিটে যদি জরুরী বিভাগ থেকে সাধারন রোগের চিকিৎসা পাওয়া যায়,তাহলে রোগীরা বাসায় চলে যেতে পারেন। এতে করে ওয়ার্ডের ডাক্তার ও নার্সদের কম কষ্ট হয়। বিনিময়ে ওয়ার্ডের চিকিৎসাধীন রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকেন। কিন্তু ডাক্তারদের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলতে গেলে বিপদ!
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে কথা হলে শেবাচিম হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার সাহাদত হোসেন বলেন, ওই দুই জন নারী ডাক্তার আমাদের হাসপাতালে নতুন এসেছে। তারা প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয়টি হয়তো বুঝতে পারেনি। ওই দুই জন নারী ডাক্তারের পক্ষ থেকে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। তাছাড়া জরুরী বিভাগে ডাক্তার সঙ্কটের কারনে আমরা অনেক সময় রোগী আসলেই ভর্তি লিখে দেই।
তবে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ মশিউল মনির বলেন,যদি দুপুরের পরে সাধারন রোগের চিকিৎসা জরুরী বিভাগ থেকে পাওয়া যায়- সেটা মন্দ নয়। আর তা নাহলে ওয়ার্ডে চিকিৎসা সেবার পরিবেশ নষ্ট হয়। আমাদের জরুরী বিভাগে মাত্র তিনজন ডাক্তার রয়েছ। যেকারনে এমন সমস্যার সৃস্টি হচ্ছে। তারপরও বিষয়টি আমি গুরুত্বের সাথে দেখবো।






