আপডেট: October 13, 2026
রিপোর্ট,শিকদার মাহবুব::
ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক বিশ্বজিতের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়মের মাধ্যমে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক বিশ্বজিতের অনিয়মিত উপস্থিতি ও কোচিং বাণিজ্যেরও অভিযোগ করেছেন কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দপদপিয়া ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক বিশ্বজিত চাকরীতে নিয়োগ পান ১৯৯৫ সালে। কিন্তু বিশ্বজিত নিয়োগের নির্ধারিত সময়ের ৩ মাস পরে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে সাচিবিক বিদ্যা বিষয়ের ওপর স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় পাশ করেন।স্নাতকোত্তর পরীক্ষার সার্টিফিকেট হাতে পাওয়ার আগে কিভাবে তিনি শিক্ষক পদে নিয়েোগ পেলেন- এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে।
প্রায় ৩১ বছর আগের অবৈধ নিয়োগের বিষয়টি ধামাচাপা পড়লেও কলেজ প্রশাসন তা খতিয়ে দেখেনি।এমনকি তার অবৈধ নিয়োগের বিষয়টি বৈধ দেখিয়ে ৩১ বছর যাবত বেতনভাতা উত্তোলন করে তা ভোগ করা হয়েছে।
তাছাড়া চাকরী হওয়ার পর থেকে বিশ্বজিত কলেজে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।এমনকি বিশেষ প্রয়োজনে বিশ্বজিত প্রতিষ্ঠানে এসে আগের দিনের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
তিনি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে নিয়োগ না পেয়ে পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, কলেজের শিক্ষক বিশ্বজিত অবৈধ পন্থায় চাকরি নিয়েছেন। বিশ্বজিত ১৯৯৫ সালে স্নাতকোত্তর পদের বিপরীতে প্রভাষক ও পরে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে বেতন-ভাতা গ্রহণ শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন সময় মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ওই শিক্ষককে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে কথা হলে বিশ্বজিত বিশ্বাস বলেন, আমার নিয়োগের সব কাগজপত্র ঠিক আছে। পরে আপনাকে (প্রতিবেদক) কাগজপত্র দেখাবো।বরিশাল শহরের বিবির পুকুর পাড় আসবেন,একসাথে চা খাবো।
তবে চাকরী নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে সাক্ষাতে কথা বলতে গেলে দপদপিয়া ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি রিমন আকন বলেন,বিষয়টি অনেক আগের। আপনারা (প্রতিবেদক) যেহেতু অভিযোগ করেছেন সেহেতু পুরনো ফাইলপত্র ঘেটে বিষয়টি দেখতে পারি।
এ বিষয়ে দপদপিয়া ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজের প্রিন্সিপাল ইমরানা পারভীন বলেন,কলেজ পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতিকে সঙ্গে নিয়ে আমি চাকরী নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করবো।






