মুলাদীতে ২০ বছর পর চালু এক্স-রে মেশিন!

আপডেট: October 15, 2026

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

মুলাদী প্রতিনিধি
বরিশালের মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ২০ বছর পর আবারও চালু হয়েছে এক্স-রে সেবা। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে এ সেবা চালু করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো এক্স-রে যন্ত্রটি বিকল হয়ে পড়লে সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। তখন হাসপাতালে এক্স-রে অপারেটর কর্মরত থাকলেও যন্ত্রটি অচল থাকায় রোগীরা এ সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

পরে ২০০৮ সালে হাসপাতালটিতে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের একটি নতুন এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সেটি হাসপাতালের নির্ধারিত কক্ষে স্থাপন করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে পরীক্ষার জন্য রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালের এক্স-রে অপারেটর মো. মনির হোসেন ছুটি নিয়ে বিদেশে চলে যান। প্রায় এক যুগ প্রবাসে থাকার পর আদালতে মামলা করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি পুনরায় চাকরিতে যোগ দেন। অপারেটরের অনুপস্থিতিতে বরাদ্দ পাওয়া এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে ছিল। পরে সেটি পাশের একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হস্তান্তর করা হয়।

পরবর্তী সময়ে বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফজলে রাব্বী দায়িত্ব নেওয়ার পর এক্স-রে সেবা চালুর উদ্যোগ নেন। এর ধারাবাহিকতায় কিছুদিন আগে হাসপাতালটিতে একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে বুধবার মেশিনটি স্থাপনের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সৈয়দ ফজলে রাব্বী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে এক্স-রে সেবা চালু ছিল না কেন, তা আমার জানা নেই। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। এরপর দ্রুততম সময়ে মেশিন বরাদ্দ পাওয়া যায় এবং সেবা চালু করা সম্ভব হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোগীরা ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে হাসপাতালে এক্স-রে করাতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে প্যাথলজি বিভাগও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার চেষ্টা চলছে।’

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
সম্পাদকঃ শিকদার মাহবুব