বরিশালে ওসির বউয়ের দাপট : এসপি বললেন ইন্টার্নাল তদন্ত চলছে

আপডেট: October 18, 2026

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রিপোর্ট, শিকদার মাহবুব
ঘটনার দিন সন্ধ্যায়। আগৈলঝাড়া থানার ডিউটি অফিসারের চেয়ারে বসা ছিলেন শাহনাজ। এমন সময় ওসি মাসুদ খানের স্ত্রী আঞ্জুমান থানায় এসে শাহনাজকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। ওসির স্ত্রী আঞ্জুমান থানার ডিউটি অফিসারকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন, শাহনাজ  রাতের বেলায় ওসির কক্ষে অবৈধভাবে যাতায়াত করেন। এমনকি শাহনাজের চাকরিতে আসা নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন আঞ্জুমান।

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানার ওসি মাসুদ খানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে থানায় জিডি করেন এএসআই শাহনাজ। এ ঘটনায় এএসআই শাহনাজ আক্তার গত ৯ সেপ্টেম্বর আগৈলঝাড়া থানায় একটি জিডি করেন। পরে শাহনাজকে দ্রুত আগৈলঝাড়া থানা থেকে সরিয়ে বানারীপাড়া থানায় বদলি করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ বিভাগের ভেতরে নানারকমে কানাঘুষা চলছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা হলে বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ আলাউল হাসান বলেন,বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে নারী এএসআই বদলি সংক্রান্ত ঘটনায় কী লেখা আছে- ওসি সাহেবের স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে? তাছাড়া বদলি সংক্রান্ত বিষয়টি আমি দেখি না, এসপি স্যার দেখেন।

এদিকে ৯ সেপ্টেম্বরের জিডিতে শাহনাজ আক্তার উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওসি মাসুদ খানের স্ত্রী আঞ্জুমান থানায় এসে তাঁকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। সে সময় শাহনাজ থানার ডিউটি অফিসারের চেয়ারে বসা ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আঞ্জুমান শাহনাজের বিরুদ্ধে রাতের বেলায় ওসির কক্ষে অবৈধভাবে যাতায়াত এবং চাকরিতে আসা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এতে শাহনাজ মানসিকভাবে বিব্রত ও অপমানিত বোধ করেন।

জিডিতে আরও বলেন,গত মার্চে ভাইয়ের বিয়ের জন্য জরুরি ছুটির প্রয়োজন হলে রাতে তিনি ছুটির ব্যবস্থা করতে থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ওসির অর্ডারলির মাধ্যমে ছুটির অনুমতি নিয়ে আবেদন করেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে তিনি জানতে পারেন, থানার এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে  ওসির স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে ওসির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ করেছিলেন।

এমনকি তাঁদের মধ্যে রাত কাটানোর সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল। তবে এসব কথা শাহনাজ নিজে সরাসরি শোনেননি বলে জিডির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আঞ্জুমানের কাছ থেকে সরাসরি অশালীন কথাবার্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে ভবিষ্যতের প্রয়োজনে শাহনাজ জিডি করেন।

এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জিডির ঘটনা সঠিক। একই সঙ্গে ওসির কারণে আবদুল্লাহ আল মামুন নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

এদিকে এএসআই শাহনাজ আক্তার জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি থানার অভ্যন্তরীণ হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। তবে জিডি-সংক্রান্ত তথ্য সঠিক।

এদিকে, ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি করার পর শাহনাজ আক্তারকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে বরিশালের বানারীপাড়া থানায় বদলি করা হয়। পাশাপাশি ওসি মাসুদ খান জরুরি ছাড়পত্র দিয়ে এএসআই আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন থানায় বদলি করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এসব বদলির সঙ্গে জিডির কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই- এক্ষেত্রে শতভাগ নিশ্চিত করেছে বরিশাল পুলিশ সুপার কার্যালয়।

এদিকে ওসি মাসুদ খান বলেন, ঘটনাটি পুলিশের অভ্যন্তরীন বিষয়। যদি কেউ জিডির কপি বাহিরে প্রকাশ করে সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধেও ব্যাবস্থা গ্রহনের বিধান রয়েছে, পুলিশ আইনে। তিনি আরও বলেন, জিডির বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনি তো থানার চার্জে, আপনার জানা নেই কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন জিডি অনলাইনে করা হয়,যেকারনে আমার জানা নেই।

তবে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শাহনাজ আক্তারের বিষয়টি নিয়ে ইন্টার্নাল তদন্ত হচ্ছে। জিডির বিষয়টি, সাধারন বিষয়। তাছাড়া শাহনাজ নিজেই এর আগে আগৈলঝাড়া থানা থেকে অন্যত্র বদলি হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

 

 

 

 

 

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
সম্পাদকঃ শিকদার মাহবুব