বরিশালে ডাঃ রিমা জু*তাপেটা করলেন এক নারী সহকারীকে . .

আপডেট: October 21, 2026

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

কলাপাড়া প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নাস্তা (মোগলাই) পাঠাতে দেরি হওয়ায় সহকারীকে বেধড়ক জুতাপেটার অভিযোগ উঠেছে এক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যারাতে বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সহকারী লামিয়াকে উদ্ধার করে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেছে তার স্বজনরা। হামলাকারী তাসলিমা ফেরদৌসী রিমা ওই হাসপাতালের নারী চিকিৎসক বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

আহত লামিয়া হাসপাতালের শয্যায় থেকে জানান, গত প্রায় চার বছর ধরে নারী চিকিৎসক রিমার সহকারী হিসেবে চাকরি করছি আমি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যারাতে ম্যাডাম আমাকে তিনটি মোগলাই তার বাসায় দ্রুত পাঠাতে বলেন। আমিও দেরি না করে মোগলাই কিনে তার গাড়ি চালকের মাধ্যমে মোগলাই পাঠিয়ে দিই। কিন্তু গাড়ি চালক দেরি করে বাসায় যাওয়াতে ম্যাডাম আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি শুধু বলেছি, মোগলাই পাঠিয়ে দিয়েছিলাম কিন্তু ড্রাইভার দেরি করেছে, এতে আমার কী দোষ?

লামিয়া কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, একথা বলা মাত্রই ডাক্তার ম্যাডাম তার সামনে থাকা কাচের ওয়েট পেপার প্রথমে ছুড়ে মারেন। এরপর ফোন, হার্ডবোর্ড যা হাতের কাছে পেয়েছেন সবকিছু ছুঁড়ে মেরেছেন। শেষে জুতা দিয়ে আমার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি পিটিয়েছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। লামিয়ার অভিযোগ, এর আগেও আমিসহ অনেকের সঙ্গে একাধিক বার খারাপ আচরণ করেছে। কেই তার ভয়ে মুখ খোলে না।

লামিয়ার স্বামী আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমার স্ত্রীর মাথায় আঘাত লাগায় সে বেশ কয়েকবার বমি করেছে। ওয়েট পেপার ছুড়ে মারায় সরাসরি বুকে আঘাত লেগেছে। একজন চিকিৎসক বিনাদোষে কীভাবে সহকারীকে এতটা নির্যাতন করতে পারে? আমি এর বিচার চাই।’

এ ঘটনার পর স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ওই হাসপাতালে গেলে ডাক্তার তাসলিমা ফেরদৌসী রিমা মারধরের কথা অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, ‘স্টাফকে শাসন করা হয়েছে, মারধর করা হয়নি।’

তবে এই নারী চিকিৎসকের বাবা ঘটনাস্থলে এসে এসআরবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সখ্যতা রয়েছে এমন সব ছবি দেখিয়ে সংবাদকর্মীদের ভীতি প্রদানের চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
সম্পাদকঃ শিকদার মাহবুব