বরিশালে মাদক কারবারীদের ছাড় দেবে না প্রশাসন ও নেতারা

আপডেট: October 22, 2026

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রিপোর্ট, ফয়জুন্নেসা শিল্পী::
বরিশালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঢিলেঢালা মাদকবিরোধী অভিযানের কারনেই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছিলেন বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান ফারুক। কিন্তু বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য তাদের বিতর্কিত কর্মকান্ড ঢাকতে ইতিমধ্যে বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান ফারুকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আমানতগঞ্জ এলাকার সাধারন মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন যাবত মাদকসহ স্থানীয় মাদকসেবীদের ধরলেও টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য। মাদক কারবারিদের ধরাছাড়ার ব্যাবসায় মেতেছেন তারা। এতে করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেমন সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে তেমন সাধারন মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। যেকারনে স্থানীয় বাসিন্দা ও নেতারা নিজেরাই মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে।

সমকালীন সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে বসলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই যুদ্ধের সৈনিক হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও। কিন্তু ইশরাক রাস্তার টোকাইদের তার ব্যাক্তিগত অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয় দেখানোর কারনে ইতিমধ্যে স্বেচ্ছায় মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাদকবিরোধী যুদ্ধে বরিশালের বিএনপি নেতা ফারুকও একজন সৈনিক হিসেবে মাঠে নেমেছেন। তবে নিজ এলাকায় মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা ফারুক ইশরাকের মতো কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যাবহার করেননি। মাদকদ্রব্য বেচাকেনা বন্ধে ও প্রতিরোধ গড়তে বিএনপি নেতা ফারুকের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও ছিলেন। কিন্তু ফারুকের এমন প্রশংসনীয় কাজে কতিপয় ব্যাক্তি নিন্দার ঝুঁড়ি হাতে ধরিয়ে দেয়। কিন্তু নিন্দার ঝুঁড়ি হাত থেকে ফেলে দিয়েই সামনের দিকে অগ্রসর হবেন বলে জানিয়েছেন এই নেতা।

কথা হলে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্ববায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, পুলিশ যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতো তাহলে আমাদের মাঠে নামা লাগতো না। কিন্তু তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে না। তা নাহলে থানা ও ফাড়ীর সামনে বসে কিভাবে মাদক বেচাবিক্রি ও সেবন করা হয়। আমার বাড়ীর সামনে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের (টিভির মাঠে) পাশে বরিশাল মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। কিন্তু তাদের কাছে মাদক ব্যাবসায়ীদের তালিকা থাকলেও মাদক কারবারীদের ধরছে না। আমরা থানা পুলিশের কাছে মাদক ব্যাবসায়ীদের তালিকা পাঠালে দু-একজন ধরলেও তাদেরকে আবার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

তাহলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ কী করে? ওদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া প্রয়োজন সবার আগে। কারণ, ওরা জানে কোথায় কে মাদক বিক্রি করছে।

বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান খান ফারুক আরও বলেন, আমি যদি মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করি- আপনারা (সাংবাদিক) আবার লিখবেন নেতার বাড়ীর সামনে মাদকের আখড়া। যেকারনে টিভির মাঠে কয়েকজন মাদকসেবীকে শাসানো হয়েছে। তাছাড়া যাদেরকে শাসন করা হয়েছে তারা আমার এলাকার ছোট ভাই। ওদের গায়ে (শরীর) যেন কলঙ্কের দাগ না লাগে সে বিষয়টাও বিবেচনায় নিতে হবে। অতএব, একটি কাজ করলেও দোষ- না করলেও দোষ! এগুলো নিয়ে কিছু মানুষের চুলকানী থাকবেই। কিন্তু আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য মাঠে নেমেছি এবং সর্বদা তাদের পাশে রয়েছি।

বরিশাল বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই আমরা মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি।

এদিকে বরিশাল মহানগর ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র আহ্ববায়ক তামিম মাহমুদ বলেন, যেখানে মাদকসেবীদের শাসানো হয়েছে সেটা আমার ওয়ার্ডের মধ্যে। ছোটবেলা থেকে দেখছি, এখানে মাদক কারবারী ও সেবীদের আড্ডা। কেউ কখনো প্রতিবাদ করেনি।

বর্তমানে আমানতগঞ্জ এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের একটা বহিঃবিস্ফোরন ঘটেছে। মানুষ যখন দেখছে আনশৃঙ্খলা বাহিনী নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে তখন নেতাদের কাছে অভিযোগ আসবে- এটা স্বাভাবিক। নেতারা তো স্থানীয়দের সঙ্গে নিজ এলাকায় বসবাস করে। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন ডিউটি শেষে তাদের ভাড়া বাসায় গিয়ে ঘুমায়।

তামিম মাহমুদ আরও বলেন, বরিশালের প্রশাসন ও আমরা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। এক্ষেত্রে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্ববায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক আইকন। তিনি ভালো কাজ করেছেন। স্থানীয় তরুনণদের অভিভাবকরাও নেতার কাছে মাদকের বিরুদ্ধে নালিশ করেছেন।

কারণ নেতা ডিউটি শেষে অন্যস্থানে গিয়ে ভাড়া করা বাসায় ঘুমায় না। নেতার ডিউটি মৃত্যুর শেষ পর্যন্ত। পুলিশের মতো শিফট চেঞ্জ করে নেতা আরেকজনকে দায়িত্ব দেন না। বিপদে পড়লে রাত তিনটা বাজলেও নেতা দরজা খুলে বলেন, মাহমুদ- কী হয়েছে? কিন্তু আপনি (সাংবাদিক) মাঝরাতে যখন থানায় মামলা করতে যাবেন তখন ডিউটি অফিসার বলবেন, ওসি স্যার থানায় নেই। কাল সকালে আসুন…

এদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মোহম্মদ সালেহ’র সঙ্গে মাদকের বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: তানভীর হোসেন খান বলেন, অনেক ভালো করেছেন, বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান খান ফারুক।
নিজ এলাকা বলতেও তো তাদের একটি দায়িত্ব রয়েছে। এরকম মাদক কারবারী ও সেবীদের শাসন করলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, টিভির মাঠ আয়তনে অনেক বড়। এটা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। অন্ধকারে গিয়ে এখানকার ছেলেপান মাদক সেবন করে। আমরাও তাদেরকে ছাড় দিচ্ছিনা। শুধু রাতের আঁধারে নয়, আমরা দিনের আলোতেও অভিযান পরিচালনা করে মাদক কারবারী ও সেবীদের ধরছি। আমরা মাদক কারবারী ও সেবীদের ধরতে রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয়দের সহায়তা চাই।

 

 

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
সম্পাদকঃ শিকদার মাহবুব