আপডেট: October 28, 2026
গলাচিপা প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জব্দ করা মাছ তিনটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। তবে বিতরণ করা মাছের একটি অংশ নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে না নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার রতনদি তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী ঘাটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় নদী থেকে অবৈধভাবে আহরণ করা প্রায় ২৫ কেজি ইলিশসহ অন্য মাছ জব্দ করেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মো. ইজাজুল হক। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে জব্দ করা মাছগুলো স্থানীয় তিনটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন জানতে পারে, বিতরণ করা মাছের দায়িত্ব নেওয়া প্রতিনিধিদের কেউ কেউ মাছ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে না নিয়ে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি জানার পর রাত ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মো. ইজাজুল হক ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে মোহাম্মদ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ দেখতে পান কর্মকর্তারা। পরে মাদ্রাসার শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় জানা গেছে, মাদ্রাসাটি আবাসিক নয় এবং বিতরণের জন্য নেওয়া মাছ তিনি নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছেন।
মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও আবুল হোসেন মাছ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ৪০ হাজার টাকা করে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, সরকারি সম্পদ হোক কিংবা জনকল্যাণে নিবেদিত কোনো সহায়তা- প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো উদ্যোগের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে সর্বদা সজাগ ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






