বরিশালে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ব্যবসায় ধ্বস!

আপডেট: October 21, 2022

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রিপোর্ট,শিকদার মাহাবুব:
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (শেবামেক) মূল গেইট নির্মাণে বিলম্ব হওয়ার কারণে বিপরীতে অবস্থিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে। সরেজমিনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগ বা করোনা ভবন সংলগ্ন গেইট দিয়ে রোগীর ও স্বজনরা খুব সহজে যাতায়াত করতে পারছে। কিন্তু মূল গেইট বন্ধ থাকায় রাস্তায় বের হতে দর্শনার্থীদের খানিকটা কষ্ট হয়। তবে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত এক চিকিৎসক বলেন, রোগী যে গেইট থেকেই আসুক না কেন আমরা জরুরী বিভাগে ভর্তি নিয়ে থাকি। জরুরী বিভাগের গেইট থেকে ভর্তি রোগী প্রবেশ করলে তাদের ভোগান্তি কম হয়। তাছাড়া রোগী যে গেইট থেকেই আসুক তারা সেবা বঞ্চিত হচ্ছে না।”

বিগত দিনে দেখা গেছে, একজন রোগীকে প্রথমে হাসপাতালের মূল গেইটে নিয়ে আসা হয়। এসময়ে মূল গেইট থেকে ট্রলিতে করে অথবা পায়ে হেঁটে তাকে জরুরী বিভাগে ভর্তি করার জন্য নেয়। এতে রোগী অনেক ভোগান্তিতে পরে। এদিকে দেখা গেছে, জরুরী বিভাগের গেইট থেকে রোগী বহন করা এম্বুলেন্স প্রবেশ করলে খুব সহজে ভর্তি হওয়া যায়। তাছাড়া এসব গেইটে এখন, আগের মতো যানজটের তেমন একটা দেখা মিলছে না। তবে ভোগান্তিতে পড়েছে হাসপাতালের মূল গেইটের বিপরীতে থাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর দালালরা। কারণ তারা সোজাসুজি রোগী ভাগিয়ে আনতে পারছে না। দালালদের পাশাপাশি ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকদেরও মাথায় হাত। কারণ এসব দালালদের গডফাদাররাও রোগী ব্যবসায়ের টাকায় জীবীকা নির্বাহ করে থাকে। কথা হলে হাসপাতালের সামনে থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়া আব্বাস দালাল বলেন, “এখন জরুরী বিভাগের বিপরীতে অবস্থিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর ব্যবসা জমজমাট। আমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে রোগী লাফিয়ে লাফিয়ে বা হাওয়ায় ভাসিয়ে আনা সম্ভব না। তাছাড়া দেওয়াল টপকেও রোগীরা আসতে পারছে না। শুধু আমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সমস্যা হয়নি। মূল গেইটের বিপরীতে থাকা খাবার হোটেল, ফার্মেসীগুলোরও বেচাবিক্রি একটু কম।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শেয়ারহোল্ডার বলেন, ” মূল গেইট নির্মাণে বিলম্ব হওয়ার কারণে আমাদের লোকসানে পড়তে হচ্ছে। ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর অভাবে এখন মশা মারছি।” হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আফরোজা বেগম বলেন, জরুরী বিভাগের সামনে থেকে এসেছি। তেমন একটা ভোগান্তি হয়নি। এর আগে আমার মেয়েকে নিয়ে এখানে এসেছিলাম। মূল গেইটে গাড়ির চালক আমাদের নামিয়ে দেয়। কিন্তু জরুরী বিভাগ খুঁজতে গিয়ে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)তে চলে যাই। তখন একজন নার্স আপা দেখিয়ে দিলে আমরা পূর্ব থেকে সোজা পশ্চিমে জরুরী বিভাগে পৌছুতে পারি। মাঝখানে রোগী ও স্বজনদের ভীড় ঠেলে আসতে আমরা অর্ধেকটা অসুস্থ হয়ে পড়ি।”

জরুরী বিভাগে কর্মরত ট্রলিচালক মুনসুর আরিফ বলেন, এখন রোগীরা খুব সহজে জরুরী বিভাগ খুঁজে পাচ্ছেন। আমরাও সহজে তাদেরকে ওয়ার্ডে পৌঁছে দিতে পারছি। মাঝেমাঝে এমনটা হয় যে, রোগী মূল গেইটে রেখে স্বজনরা দৌড়ে হাঁপাতে-হাঁপাতে এসে ট্রলি নিয়ে টানাটানি করে। নিরুপায় হয়ে আমাদের জরুরী বিভাগ থেকে ট্রলি নিয়ে রোগী আনতে মূল গেইটে যেতে হয়। ফের জরুরী বিভাগে আসতে হয়। আবার রোগী নিয়ে মূল গেইট সংলগ্ন লিফট দিয়ে ওয়ার্ডে যেতে হয়। এতে করে আমাদের ও রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এমনকি উভয়ের সময় অপচয় হয়। মাঝেমধ্যে এমন ঘুরপাকে ও সময়ের অভাবে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।

এদিকে হাসপাতাল পরিচালক ডাঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “রোগী ও দর্শনার্থীদের প্রবেশের পথ সহজ করার লক্ষ্যে আমরা দ্রুত করোনা ভবন সংলগ্ন গেইট খুলে দিয়েছি। পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদফতরকে দ্রুত গেইট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।”

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শিকদার মাহাবুব