বরিশালে দালাল চক্র চিকিৎসকদের অর্জিত সুনাম নষ্ট করছে….

আপডেট: November 26, 2022

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রিপোর্ট,শিকদার মাহবুবঃঅতিরিক্ত রোগীর চাপ থাকলেও চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে কাজ করছে বরিশালের ডাক্তাররা। এক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে ইন্টার্ন ডাক্তাররা। সিনিয়র ডাক্তারদের অনুপস্থিতিতে তারা চব্বিশ ঘণ্টা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। রোগী ও তাদের স্বজনদের খারাপ আচরণ, চিকিৎসা সরঞ্জামাদির অপ্রতুলতা থাকলেও চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে না। পাশাপাশি ডাক্তার সঙ্কটেও চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে তারা। হাসপাতালে সিনিয়র ডাক্তাররা না থাকলেও,ইন্টার্ন ডাক্তাররাই এখানে একমাত্র ভরসা। তবে এসব ভরসার স্থল যেন এখন দালালদের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। দালালদের কারণে ডাক্তারদের অর্জিত সুনাম এখন নষ্ট হতে যাচ্ছে। এসব দালালরা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেই বলে,রোগীদের অন্যত্র ভাগিয়ে নিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি বদনামের ভাগিদার হচ্ছে হাসপাতালের সরকারী কর্মচারীরাও। যদিও হাসপাতাল প্রশাসনের সহায়তায় এর আগে র্যাবের হাতে দালালদের গডফাদার আব্বাস আটক হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এই দালাল চক্র। ওই দালাল চক্র নিধনে জেলা প্রশাসন,র্যাব ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শেবামেক হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা। এদিকে এসব দালালদের উৎপাত বন্ধ করতে কয়েকদিন আগে বান্দ রোড ডায়াগনস্টিক এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি তালিকা তৈরী করা হয়। পরবর্তীতে ওই তালিকা বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের পরিচালকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কথা হলে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের পরিচালক ডাঃ হুমায়ুন কবীর শাহিন খান বলেন,”দালালদের বিষয়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হবে। সরকারী কর্মচারীদের দালাল বলা যাবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করা হবে। তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে”।

শেবামেক হাসপাতালের সহকারী
পরিচালক ডাঃ এস.এম.মনিরুজ্জামান বলেন,”ক্লিনিকগুলোতে রোগী ভাগানো হয় না। মূলত প্যাথলজি পরীক্ষাগুলো করার দোহাই দিয়ে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী ভাগিয়ে নেওয়া হয়। আমাদের হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ যদি তিন শিফট চালু থাকতো তাহলে এমন ভোগান্তি হতো না। পাশাপাশি জনবল সঙ্কট দূর করতে হবে। এছাড়াও পরীক্ষা নিরীক্ষা করার মেশিনের পেছনে সৎ লোক থাকতে হবে”।

শেবামেক হাসপাতাল আউটডোর ডক্টরস এসোসিয়েশনের ডাঃ সৌরভ সুতার বলেন,” হাসপাতালের বহিঃবিভাগ নিয়ে আমি বলবো-
ডাক্তারদের মধ্যে কেউ এসব কাজে জড়িত নয়। তবে আমাদের হাসপাতালে কর্মরত কতিপয় কর্মচারীদের মন-মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি সকল পরীক্ষা নিরীক্ষার মেশিন হাসপাতালে সচল রাখতে হবে। তাহলে রোগীরা দালালদের খপ্পরে পড়বে না। রোগীদের মধ্যে অন্তত পক্ষে একটা আস্থা তৈরী হবে যে,এখানে সকল পরীক্ষা নিরীক্ষার পাশাপাশি ১০০% চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়”।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শিকদার মাহাবুব