আপডেট: May 2, 2023
স্টাফ রিপোর্টার
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্সরা রাত বারোটা বাজলেই দরজা আটকে ঘুমিয়ে পড়ে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসবের একটা ভিডিও ফুটেজও হাতে এসেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্সরা ভেতর থেকে দরজা আটকে ঘুমাচ্ছে। এমনকি জানালার গ্লাসের ভেতর থেকে নার্সদেরকে রোগীরা যেন না দেখে,সে জন্য হাসপাতালের বেডের চাদর ব্যবহার করে চারদিকে বেড়া দিয়ে রেখেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে হাসপাতালের মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসেন নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের খায়রুল খানের স্ত্রী নুপুর বেগম ও তার শিশুকন্যা আলিফা। তাদেরকে ওয়ার্ডের বেডে বসিয়ে মামা শাওন নার্সদের রুমের সামনে যায়। এসময়ে নার্সদের রুমের দরজা ও লাইট বন্ধ দেখে শাওন ডাকাডাকি করে। কিন্তু কেউ তার ডাকে সাড়া দেয়নি। একপর্যায়ে শাওন ভাঙা জানালায় বেড়া দেওয়া হাসপাতালের বেডের সাদা চাদর সরিয়ে কেউ ভেতরে আছে কিনা জানতে চায়। এমন সময়ে মাথায় লাল ওড়না পরিহিত দায়িত্বরত এক নার্স চেচিয়ে ওঠে। ওই নার্স চেচিয়ে বলতে থাকে “মরার রোগী” আসার আর সময় পায় না। এতে ক্ষিপ্ত হয় রোগী ও তার স্বজনরা। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোঃ শাওন বলেন, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে
ভর্তির কাগজ নিয়ে আমি নার্সদের রুমের সামনে যাই। সেখানে নার্সদের রুমের দরজা ও লাইট বন্ধ দেখি।
সাড়া-শব্দ না পাওয়ার কারণে আমি ভাঙা জানালায় বেড়া দেওয়া হাসপাতালের বেডের সাদা চাদর সরিয়ে কেউ ভেতরে আছে কিনা জানতে চাই। এমন সময়ে মাথায় লাল ওড়না পেচানো দায়িত্বরত এক নার্স চেচিয়ে ওঠে। তিনি চেচিয়ে বলতে থাকে “মরার রোগী” আসার আর সময় পায় না। একটু শুয়েছিলাম, এরমধ্যেই এসে আবা হাজির! সকালে আমি জানতে পারি সে হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন নার্স ছিলেন, তার নাম প্রভাতী। মোঃ শাওন বলেন কতিপয় নার্সদের জন্য হাসপাতালের সুনাম নষ্ট হয়। আমরা এসব নার্সদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি”। কথা হলে মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স প্রভাতী বলেন, আমরা গায়ের ওড়না ফেলে দিয়ে একটু এখানে ঘুমাই। কোন সাহসে তারা ( রোগী ও স্বজনরা) জানালার চাদর সরিয়ে আমাদের ডাকবে। সরকার আপনাকে এখানে ঘুমানোর জন্য নাকি ডিউটি করার জন্য পাঠিয়েছে ? এমন প্রশ্নের জবাবে মুক্তি বলেন আমরা ঘুমালেই দোষ। ডাক্তাররা যে রুম আটকে কিংবা বাড়ি গিয়ে ঘুমায় তা আপনাদের চোখে পড়ে না!! এদিকে সাক্ষাতে কথা হলে নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট রওশন আরা খাতুন বলেন, “আগেও মহিলা সার্জারী ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্সদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেন দায়িত্বরত অবস্থায় নার্সরা দরজা ও লাইট বন্ধ করে ঘুমাবে। এটা ঘুমানোর জায়গা নয়। আমি বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করবো। আমাকে আপনারা (সংবাদকর্মীরা)একটু সময় দিন।”






