আপডেট: July 24, 2023
স্টাফ রিপোর্টার::বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবামেক) ব্রাদার ইউসুফের সহযোগীতায় রোগীদের দুইটি বেড দখল করে শুয়ে শুয়ে ডিউটি করছে পুলিশ! তবে পুলিশের এমন আচরণ নিয়ে কথা হলে বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এহসান উল্লাহ বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনি (সংবাদকর্মী) বরিশাল নৌথানার ওসিকে বিষয়টি অবগত করলে ভালো হয়।”
আজ (সোমবার)বেলা সাড়ে বারোটার দিকে শেবামেক হাসপাতালের পুরুষ সার্জারী(২) ওয়ার্ডে বিষয়টি নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণও করে পুলিশ সদস্যরা। একপর্যায়ে রোগী ও তাদের স্বজনদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় তারা।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ডাকাতি মামলার অভিযোগে আসামীদের ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলেও মোট ৪টি বেড দখল করে পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন যাবত রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিলো। ৩৫ নাম্বার বেডের পাশে ফ্লোরে বসে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন অপারেশন হওয়া রোগী হাদীস। আর পুলিশ হেফাজতে আসামীদের পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্য রানা এখানকার ৩৫ নাম্বার বেডে শুয়ে শুয়ে ডিউটি করছিলো। একপর্যায়ে রানা আসামীদের বেডে যাওয়ার সুযোগে অপারেশন হওয়া রোগী হাদীস ৩৫ নাম্বার বেডে উঠে পড়ে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এসময়ে উচ্চস্বরে কথা বলে হাসপাতালের পরিবেশ ঘোলাটে বানিয়ে ফেলে পুলিশ সদস্যরা। তবে ওয়ার্ডের নার্স ও আয়ারা ওই পুলিশ সদস্যদেরকে কিছুই বলতে পারছিলো না। কারণ ওয়ার্ডের ব্রাদার ইউসুফের সহযোগীতায় কয়েকদিন যাবত পুলিশ সদস্যরা বেডগুলো দখল করে নিয়েছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ কনস্টেবল রানা বরিশাল নৌথানায় কর্মরত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কথা হলে পুলিশ কনস্টেবল রানা বলেন, ‘২ জন আসামীসহ ৪টি বেডে হাসপাতালের পরিচালক আমাদের থাকতে বলেছেন। তাছাড়া এই বেডগুলোতে রোগীরা থাকতে পারবে না।’ অভিযোগ রয়েছে পুলিশ কনস্টেবল রানার পাশাপাশি অন্য পুলিশ সদস্যরাও ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। তবে হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছেন, আসামীদের জন্য আলাদা কোনো বেড বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এখানে সবার পরিচয় রোগী। আসামি হিসেবে রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়না। আর পুলিশ সদস্যরা এখানে ডিউটি করতে এসেছে। তারা রোগীদের বেড দখল করে শুয়ে থাকবে এটা কাম্য নয়। তবে বেড দখলে পুলিশকে সহায়তাকারী ব্রাদার ইউসুফের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে পুলিশের এমন আচরণ নিয়ে কথা হলে বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এহসান উল্লাহ বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনি (সংবাদকর্মী) বরিশাল নৌথানার ওসিকে বিষয়টি অবগত করলে ভালো হয়।” এদিকে বরিশাল নৌথানার ওসির সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ ডিউটি করতে গিয়ে হাসপাতালের রোগীদের বেড দখল করবে এটা ঠিক নয়। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’






