আপডেট: February 27, 2024
স্টাফ রিপোর্টার::মসজিদের উন্নয়নের নামে আদায় করা কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বরিশাল শহরের উত্তর আমানগঞ্জ শিকদার পাড়া জামে মসজিদ অবৈধ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মিরাজ ওরফে চোরা মিরুজের বিরুদ্ধে। সে জোর করে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। ওই এলাকার বাসিন্দা ও সাংবাদিক শিকদার মাহবুব বলেন, শিকদার পাড়া স্বনামধন্য একটি জামে মসজিদ। দীর্ঘদিন ধরে এই মসজিদের কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। হঠাৎ ২০১৮ সালে মিরাজ ওরফে চোরা মিরুজ নিজে নিজে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি বলে দাবি করে নিজেকে। ক্ষমতা দখলের পর মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে মসজিদের দুইতলা ভবন ভেঙে দেয়। পাশাপাশি মসজিদের কয়েকটি স্টল ভেঙে মাসিক ভাড়া বাবদ মসজিদের আয় বন্ধ করে দেয় সে। সাংবাদিক শিকদার মাহবুব বলেন, মসজিদের উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে সে আত্মসাৎ করেছে। তাছাড়া জৌনপুরী খানকাহ’র টয়লেট নির্মাণের জন্য উত্তোলন করা ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মসজিদ ফান্ডে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছে। এছাড়াও মিরুজের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই দোকান ভাঙচুর ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে থাকে। ওই এলাকার এক যুবক চোরা মিরুজের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলো। যেকারণে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় প্রতিবাদকারী ওই যুবক মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারবে না। সেই থেকে প্রতিবাদকারী যুবক ওই মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারছে না। এদিকে মসজিদের সাধারণ মুসল্লীরা জানিয়েছে মিরুজ মসজিদের দান-সদকার টাকা দিয়ে নিজের ছেলেমেয়েদের জন্মদিন পালন করেন। এমনকি মসজিদের টাকা দিয়ে নিজ স্ত্রী’কে জামাকাপড় কিনে দেয় সে। এসব ঘটনা জানাজানি হলে মিরুজকে মসজিদ থেকে বিতাড়িতও করা হয়। তারপরও নির্লজ্জ চোরা মিরুজ জোরপূর্বক মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি পদ দখল করে রেখেছে। তার এমন অপকর্মে সাধারণ মুসল্লীরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। খুব শীঘ্রই এই মসজিদ কমিটি নিয়ে মুসুল্লিদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। সংঘর্ষ এড়াতে বরিশাল সিটি মেয়র, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার ও স্থানীয় কাউন্সিলরসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয়রা।
এদিকে মসজিদ কমিটির বিতর্কিত সেক্রেটারি ও মৃত মোহাম্মদ নাইয়ার ছেলে মিরাজ নাইয়া জানায়, “খুব অল্প টাকা উঠেছিলো মসজিদের নির্মাণ কাজের জন্য। আর সব টাকা-ই মসজিদ নির্মাণ কাজে ব্যয় করা হয়েছে।”
অন্যদিকে মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, “সভাপতি হিসেবে আমাকে ততোটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কারণ মসজিদে এর আগে সভাপতি ছিলেন কামাল হোসেন। সে চলে যাওয়ার পর সিলেকশনে সেক্রেটারি হয় মিরাজ। তবে মসজিদের হিসেবনিকেশ আমি রাখি না। মিরাজ সবকিছু তদারকি করে।”






