এরার,খান হাবিবকে ঘায়েল করতে নয়া মিশন…

আপডেট: June 18, 2024

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

 

স্টাফ রিপোর্টার:::বরিশাল জেলা মৎস্য আড়ৎদার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বরিশাল মহানগর মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি খান মোঃ হাবিব যখন গণমানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন, তখন আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে একটি কুচক্রী মহল। মিথ্যা ও বানোয়াট ঘটনায় তাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, বরিশালের একজন সৎ, পরিচ্ছন্ন, গণমানুষের এই নেতাকে মিথ্যা ঘটনায় জড়িয়ে অপপ্রচারের চেষ্টা করা হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই এটা মেনে নেবে না। ষড়যন্ত্র করে তাকে রাজনীতির মাঠ থেকেও সরানো যাবে না। এ ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে সরে এসে প্রতিপক্ষকে সুষ্ঠু রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জানা যায়, বরিশাল শহরের উত্তর আমানগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও সাংবাদিক শিকদার মাহবুব ও তার পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে মোটরসাইকেল যোগে পোর্ট রোড বাজার থেকে নিজের এলাকায় আসেন শিকদার মাহবুব । সেখানে তিনি তার বন্ধুদের নিয়ে চা পান করেন। চা পান করা শেষে সাংবাদিক শিকদার মাহবুব তার বাসার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দিলু মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে তাদের গতিরোধ করে স্থানীয় ছিডা পরিবার। একপর্যায়ে ছিডা পরিবারের সদস্য ফেন্সি তুহিন ওরফে জামাই তুহিন, ছিডা মামুন,ছিডা নিজাম, ছিডা কালু,ছিডা আরাফাত, ছিডা হাসিব,ছিডা তাসিব,জাহিদ, নাবিল,অর্কো,মজিবর ওরফে জাটকাখোর মজিবর,মিরাজ ওরফে চোরা মিরুজ,নাঈম ওরফে নঈয়াসহ ১০/১২ জন যুবক সাংবাদিক শিকদার মাহবুবের ওপর হামলা চালায়। এসময়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করে স্থানীয় লোকজন।হামলায় সাংবাদিক শিকদার মাহবুব আহত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলার সময় তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলও ভাংচুর করা হয়।পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিক শিকদার মাহবুবের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে কাউনিয়া থানা হেফাজতে রাখা হয়। হামলার বিষয়টি শিকদার মাহবুব বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার জিহাদুল কবিরকেও অবগত করেন।

 

   এ ঘটনাকে পুঁজি করে ওই এলাকার ছিডা পরিবার উল্টো তাদের ওপর হামলা হয়েছে এমন মিথ্যা  অযুহাতে একটি ভুঁইফোড় পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে সংবাদ প্রকাশ করে। প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম ছিলো “খান হাবিব গ্রুপ আবারও বেপরোয়া?? বরিশাল নগরীর আমানগঞ্জ এলাকায় হামলা, জনমনে আতঙ্ক!!” যা আদৌও সত্য নয়।

 

এদিকে মিথ্যা ও মনগড়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ  করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বরিশাল জেলা মৎস্য আড়ৎদার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও বরিশাল মহানগর মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি খান মোঃ হাবিব। খান মোঃ হাবিব বলেন, ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে প্রতিপক্ষ আমাকে মিথ্যা ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করছে। বরিশালের কয়েকটি হাটবাজার ইজারা পাওয়ার পর থেকেই ওইসব স্থানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পেষিত-নির্যাতিত ও কোণঠাসা অবস্থায় থাকা ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আমার সাথে  কাজ করছে। ইতিমধ্যে হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মন জয় করেছি আমি। আর এতেই মাথা নষ্ট হয় আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের। বিপুল জনসমর্থন দেখে রাজনৈতিক মাঠে জল ঘোলা করার চেষ্টায় নেমে পড়েছে প্রতিপক্ষ। যে কারনে ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করিয়াছে। আমি এসবের তীব্র নিন্দা জানাই।”

 

এদিকে সাক্ষাতে কথা হলে সাংবাদিক শিকদার মাহবুব বলেন,”আমার ওপর হামলা হয়েছে, ঘটনা সত্য। তবে খান হাবিবের রাজনীতি আমি করি না। আমি সাংবাদিকতা করি। আমি কোনো দলের সিল, নিজ পিঠে মারিনি। ক্লিন ইমেজ রয়েছে আমার। আর খান হাবিবকে জড়িয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে, তা প্রশাসন দেখবে। আমি কেন খান হাবিবের কাছে সহায়তা চাইতে যাবো? আমার নিজেরও তো পাওয়ার আছে। তাছাড়া বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধ দমনে এখন দ্রুত গতিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। হামলার বিষয়টি আমি বরিশালের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবগত করেছি। ভুঁইফোঁড় ওই পত্রিকার অনলাইন ভিডিও আমি দেখেছি। সংবাদের এতো লম্বা শিরোনাম দেখলে আপনারাও বুঝবেন তারা অপেশাদার সাংবাদিক। ঘরের টেবিল-চেয়ার ফেলে রেখে যে দৃশ্য ধারন করা হয়েছে, তা সাজানো গোছানো।

ভিডিওতে দেখবেন একটি চেয়ারও ভাঙা নেই। যদি ঘরের মধ্যে ঢুকে কেউ হামলা করে থাকে সিসিটিভি ফুটেজ থাকবে। সেটাও নেই। আমি মনে করি সংবাদ প্রকাশ করার ক্ষেত্রে ওই প্রতিবেদকের কোনো ধারণাই নেই।” স্থানীয় বাসিন্দা নিরব শিকদার বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সাংবাদিক পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষ। এখানে খান হাবিবের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটা একধরনের অপপ্রচার। স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্য ব্যবসায়ী মারুফ হোসেন বলেন, ঘটনার দিবাগত রাতে ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। প্রতিপক্ষ অযথা আমার নাম ব্যবহার করেছে। আমি এসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ওই এলাকার গৃহিণী ফরিদা পারভিন বলেন, ঘটনার দিবাগত রাতে আমি মশার কয়েল কিনতে দোকানে যাই। এসময়ে সাংবাদিক শিকদার মাহবুবকে মারধরের পাশাপাশি তার  মোটরসাইকেল ভাংচুর করে ছিডা পরিবার। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ওই এলাকার দোকানদার তামিম মাহমুদ বলেন,হামলার সময় আমি ওই সাংবাদিককে বাঁচাতে এগিয়ে আসি। এসময়ে আমাকেও মারধর করে ছিডা পরিবারের লোকজন। এমনকি আমার দোকান তালাবদ্ধ করে রাখে ওরা। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে দোকানের তালা ভেঙে ফেলা হয়। বর্তমানে ছিডা পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকাবাসী।

 

অন্যদিকে  বরিশাল জেলা মৎস্য আড়ৎদার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ  আব্দুল জব্বার বলেন,ভুঁইফোড় পত্রিকায় এমন সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি নিন্দনীয়। খান হাবিব একজন হাজী মানুষ। মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি। একটি এতিমখানাও পরিচালনা করেন। তার অধীনে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। নষ্ট মনের মানুষ হলে এতোদিনে আমিও তার কাছ থেকে দূরে চলে যেতাম। এখন পর্যন্ত তাকে কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখিনি। আপনারা মিথ্যা ও বানোয়াট কথা লিখলে কিন্তু মরার পরে আল্লাহর কাছে হিসেব দিতে হবে

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শিকদার মাহাবুব