সিডা কালুর নেতৃত্বে আ’লীগ সরকারবিরোধী ১০০ টির বেশি মিছিল!!

আপডেট: June 21, 2024

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেক:::বরিশাল শহরের উত্তর আমানতগঞ্জ থেকে সিডা কালুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী অন্তত ১০০ টির বেশি মিছিল বের হয়। গত ১০ বছরে কালু তার কর্মী-অনুসারীদের নিয়ে রাজপথে জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন কর্মসূচি চালালেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে থানায় অদ্যবধি কোনো মামলা বা অভিযোগ হয়নি। এর নেপথ্য হেতু হচ্ছে, থানায় তার অধিক যাতায়াত এবং কালুর ওয়ার্ডের যুবলীগ সম্পাদক মজিবর ওরফে জাটকাখোর মজিবর তারই শাগরেদ। সবকিছু মিলিয়ে শক্তিমান কালুকে আর টলায় কে! যেকারণে সর্বশেষ সাংসদ নির্বাচন পূর্বাপরও কালু অটোরাইসমিল এলাকার রাস্তায় বড় বড় গাছের গুড়ি ফেলে হরতাল-অবরোধ পালন করেছে।

 

বর্তমান আওয়ামী লীগের শাসনামলেও নিজের শক্তি জাহির করছে কালু। বরিশাল শহরের সদর উপজেলার তালতলি বাজার থেকে প্রতিদিন  তুলছে চাঁদা। জানা গেছে, সাদিক আব্দুল্লাহ মেয়র থাকাকালীন কালু-মিরাজ এই বন্দর থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলতেন, এখনও তুলছেন।

 

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা স্বীকার করেছেন “কালু সিকদার, তার চাচাতো ভাই নিজাম সিকদার, মামুন সিকদার এবং মিরাজ সিকদার বিএনপির ওয়ার্ডপর্যায়ের নেতা-কর্মী। এমনকি তারা বিএনপি হিসেবে পরিচিত হলেও সাবেক মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র ক্ষমতার আমলে এলাকায় চোরা কারবার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক অত্যাচার নিপীড়ন চালিয়েছে। তাদের এই অপকর্মে রাজনৈতিক শেল্টার দিয়েছেন, দিচ্ছেন সাদিকপন্থী ওয়ার্ড যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মজিবর।

একটি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় বিতর্কিত সিডা পরিবারটি বিএনপির রাজনীতি করলেও তারা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। বিশেষ করে কালুর সাথে কাউনিয়া থানা পুলিশের রয়েছে গভীর সখ্যতা। তালতলী মৎস্য বন্দর থেকে অবৈধভাবে চাপিলা, জাটকা ও রেণুপোনা পাচার করে অর্জিত অর্থের একটি অংশও কাউনিয়া থানা পুলিশের ওসি মো. আসাদুজ্জামানকে উৎকোচ হিসেবে দেওয়া হয়। যার বদৌলতে কালুর রয়েছে থানায় ব্যাপক যাতায়াত। অবশ্য এনিয়ে থানা পুলিশের মধ্যে নানা সমালোচনার জন্ম হয়। কিন্তু ওসির কাছের লোক হওয়ায় অপরাপর কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলার সাহস দেখায় না। যদিও ওসি আসাদুজ্জামান বিএনপিপ্রীতির এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন। ওসি বলেন, কালু বিএনপি করে বিষয়টি আমার জানা ছিল না।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই সিডা পরিবার তৎকালীন বিএনপি জামাতের আমলে উত্তর আমানতগঞ্জে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। কালু, নিজাম, মাছুম এবং মিরাজসহ ১০ জনের একটি বাহিনী ওই সময় উত্তর আমানতগঞ্জ, বেলতলা থেকে শায়েস্তাবাদ পর্যন্ত সন্ত্রাস চালিয়েছে।

বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, ‘এই কালু, নিজামের ছোট ভাই মাছুম ওরফে সিডা মাসুম এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করাসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়। তাকে কুপিয়ে হত্যা এবং একটি হাত কেটে নিয়ে মহাবাজ শফি মিয়ার গ্যারেজ এলাকার ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, মাছুমকে  হত্যা করে যারা কারাবন্দী ছিলো- সেই মিরাজ, নয়ন এবং সেলিমদের নিয়েই চলছে এখন বিএনপি নেতা কালুর চোরাকারবারি এবং ত্রাসের রাজত্ব।

কালু ও তার গোটা পরিবার স্বাধীনতাবিরোধী জামাত-বিএনপির রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত থাকলেও,তিনি হঠাৎই নিজেকে মস্তবড় আওয়ামী লীগার দাবি করে। এলাকার মানুষের ওপর জুলুম নির্যাতন করে আবার নিজেকে আওয়ামী লীগ দাবি করলেও কালুর সিডা পরিবারটি বিএনপি ঘরনার হিসেবে সমাধিক পরিচিত। ছিডা কালুর পরিবার  বরিশাল বিএনপির নেতা এবায়দুল হক চাঁনের রাজনৈতিক পরিচয়ে মাঠে নামে। পরে ভোল পাল্টে নগরীর আরেক প্রভাবশালী নেতার  রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করে। অন্যদিকে সিডা কালুর জামাতা তুহিন ওরফে ফেন্সি তুহিন বিএনপি নেতা ও সিটি কর্পোরেশনের ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ হাবিবুর রহমান টিপুর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। এমনকি ফেনসিডিলসহ আটক হয়ে দীর্ঘদিন যশোর জেলায় কারাবাস হয় তুহিনের।

তবে, একপর্যায়ে ডিগবাজি খেয়ে সিডা কালুর পরিবার সাদিক আব্দুল্লার সেকেন্ড ইন কমান্ড নিরব হোসেন টুটুলের ছত্রছায়ায় শান্তির জনপদ উত্তরাঞ্চলে ক্রমাগত হিংসা ছড়ানোসহ অবৈধ পথে অর্থ ইনকাম করতে গিয়ে একের পর এক সন্ত্রাস সৃষ্টি করে চলছে। সাংবাদিক-পুলিশকেও মারধর করেছে তারা। পুলিশের সার্জেন্টকে পেটানোর ঘটনায় জেল খেটেছিলো ছিডা নিজাম ও ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা মজিবর। সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক অপূর্ব অপুর ওপর হামলা ও অপহরণ মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলো সিডা মামুন ওরফে চোরা মামুন। মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে। এছাড়াও সিডা মামুনের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক পাচার মামলা রয়েছে। এদিকে র্যাব ও পুলিশের নামে চাঁদা তোলার ঘটনায় সিডা কালুকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে  মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে সাদিক আব্দুল্লাহ সিটি কর্পোরেশনের চেয়ার হারানোর পরে তালতলি বাজারটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছিডা পরিবারকে বেশ ঝুটঝামেলায় পড়তে হয়। তখন কাউনিয়া থানা পুলিশের টহল গাড়িকে একদিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, অন্যদিকে কালু-মিরাজ চাঁদা উত্তোলন করে।

 

বর্তমানে সিডা পরিবারের দাপটের কারণে অনেকেই মুখ খোলার সাহস শক্তি দেখাতে পারছেন না। কারণ এই অশুভ সিন্ডিকেটের সাথে থানা পুলিশের ওসি আসাদুজ্জামানের গভীর সখ্যতার বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে মুখে শোনা যায়।

এক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবিরের  ভাষ্য হচ্ছে, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি মোটেও ওয়াকিবহাল ছিলেন না। এমনকি থানা পুলিশও তাকে কিছু অবহিত করেনি। তবে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবেন এবং ব্যবস্থাও গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শিকদার মাহাবুব