আপডেট: July 16, 2024
রিপোর্ট, তারিকুল ইসলামঃ-বরিশাল আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌযানের সার্ভে ফিটনেস ও নিবন্ধনে চলছে ব্যাপক অনিয়ম। বলা চলে বরিশালে নৌযানের সার্ভে এবং রেজিস্ট্রেশন অফিসে বাপ-ছেলের কাছে জিম্মি ছোট ছোট নৌযান মালিকরা।
পুরাতন নৌযান রেজিস্ট্রেশন করতে হলে- সার্ভে অফিসে প্রধান অফিস সহকারী ইদ্রিস ও তার ছেলে রাহাত মিলে এক প্রকার জিম্মি করছে নৌযান মালিকদের।
বাপছেলে মিলে নৌযান মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সার্ভে অফিসে তদারকি না থাকার সুবাদে ইদ্রিসের নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল এক সিন্ডিকেট। যার মাধ্যমে বরিশাল বিভাগ থেকেই সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশনের নামে বছরে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
ছদ্মবেশে ইদ্রিসের অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসে বসে ঘুষের টাকা নেওয়ার দৃশ্য। যা রীতিমতো অবাক করে দেয় অনুসন্ধানকারী সংবাদকর্মীদের। এখানে ঘুষের টাকা কম হলে তা নিজের টেবিলের ফাইলের উপরে রেখে দেন ইদ্রিস। ইদ্রিসের এমন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত সার্ভে অফিসের জেষ্ঠ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম। সিরাজের যোগসাজসে এমন কাজ করে আসছে ইদ্রিস।
তবে ইদ্রিসের ভাষ্য হচ্ছে, সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলে কোনো লাভ হবেনা। সমাধান করতে হলে তার কাছেই আসতে হবে।
তাছাড়া তার কাজের বিষয়ে স্যারেরা সব কিছু জানেন।
অফিসটিতে নৌযান নবায়ন করতে গেলে ইদ্রিস তার নিজের ছেলে রাহাতের কাছে পাঠিয়ে দেয় ভুক্তভোগীদের। রাহাত ছাড়া অন্য কারও কাছে অনলাইনে আবেদন করলে তা গ্রহনযোগ্য হবে না। দেখা যায়, অফিস চলাকালীন সবসময়ই ইদ্রিসের ছেলে তার বাবার কাছে আসে। বিভিন্ন অনলাইনের আবেদনের কাজ নিতে ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকাপয়সা লেনদেনের আলাপ-আলোচনা করিয়ে দিতে। এখানেই নবায়নের জন্য বাড়তি টাকা নিয়ে নেন তারা।
রাহাতের ভাষ্য হচ্ছে, আমি ব্যতীত এই আবেদন বরিশালে অন্য কেউ করতে পারেনা। রাহাত একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ বিভাগের ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র। তাছাড়া রাহাত ক্লাস ও লেখাপড়া ফাঁকি দিয়ে টাকার লোভে এখানে পড়ে আছে। বান্দরোডে অবস্থিত রাহাতের দোকানটির পজিশন পাঁচ লাখ টাকার ওপরে। দোকান ভাড়া গুনতে হয় মাসে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। এখানে তার বাবা ইদ্রিসের ঘুষের টাকার অধিকাংশ লেনদেন হয়ে থাকে।
বাপছেলে মিলে অবৈধভাবে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে আয় করেছেন কোটি টাকা মূল্যের অঢেল সম্পদ। বরিশাল ও ঢাকায় নামে-বেনামে গড়েছেন সম্পদ। সেসবের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
ভোলা থেকে বরিশালে সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করতে আসেন মীর হাবিবুল্লাহ। মীর হাবিবুল্লাহ হা-মীম লঞ্চের স্বত্বঅধিকারী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা লঞ্চ ও ট্রলার নবায়ন করতে এসে ইদ্রিস ও তার ছেলে রাহাতের কাছে একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছি। নৌযান নবায়ন করতে আসলে তার ছেলেকে দিয়ে অনলাইন আবেদন করতে হয়। রাহাতের কাছে আবেদন করলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে। অন্যদিকে রাহাতের কাছে আবেদন করলে গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা।
মীর হাবিবুল্লাহ বলেন আমি নগদ টাকা দিয়েছি। দাবিকৃত টাকা কম হয়েছে বলে তা ফিরিয়ে দেয়। তিনি বলেন ওদের কথামতো কাজ না করলে আমাদের লাইসেন্স বাতিল করে দিবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগী বলেন, সকল প্রকার কাগজ পত্র দিয়ে আমার নামে আইডি করে নিতে চাইলে তারা অপারগতা প্রকাশ করে। উল্টো তাদের মনের মত লোকের নামে আইডি খুলে আমাদের হয়রানি করে।দাবিকৃত অতিরিক্ত টাকা না দিলে সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশন করবে না বলে সাব জানিয়ে দেয়। তিনি বলেন আমরা এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছি।
বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনে কথা হলে বরিশাল নৌযানের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশন অফিসের ইদ্রিস বলেন, আপনি আমার অফিসে আসেন। আমি ফোনে বেশি কিছু বলতে পারবো না।
এদিকে অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে জানার জন্য বরিশালের আঞ্চলিক নৌযান সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশন অফিসের জেষ্ঠ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা রিসিভ হয়নি। পরে তার মুঠোফোনের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।
তবে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মহা-পরিচালক কমডোর মো: মাকসুদ আলম সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। আপনার (সংবাদকর্মী) কাছে যেসব তথ্য আছে দ্রুত আমাকে হোয়াটসঅ্যাপ করেন। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।






