আপডেট: November 1, 2024
স্টাফ রিপোর্টার::বরিশালের ইয়াবা বাবুল এখন পটুয়াখালীতে মালয়েশিয়া নামে একটি আবাসিক হোটেল ভাড়া নিয়ে মাদক ও পতিতা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে দেদারসে। তবে অবৈধ এই বাণিজ্য সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল নয় স্থানীয় প্রশাসন।
তবে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন,আমি সম্প্রতি থানায় এসে ওই পতিতালয়ের নাম শুনেছি। ওখানে দেহব্যবসা চলে। খুব শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।
তবে হোটেল মালয়েশিয়ার ভাড়াটিয়া মালিক বাবুল ওরফে ইয়াবা বাবুল বলেন,আমি এখানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছি। কিছুদিন কাজ করার পর আমি এখান থেকে অন্যত্র চলে যাবো। তাছাড়া এখানে দেহব্যবসার মতো কোন অবৈধ কাজ চলেনা।
পটুয়াখালী শহর জুড়ে চলছে হোটেল ব্যবসার অন্তরালে মধুকুঞ্জের বাণিজ্য। আবার স্থানীয়দের অভিযোগ, অসামাজিক কাজ চললেও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব জেনেও না জানার ভান করে তাদের যথাযথ দায়ীত্ব পালনে উদাসিনতা দেখাচ্ছে। এখানকার মুনাফালোভী বিল্ডিং মালিক আবাসিক হোটেলের নামে ভাড়াটিয়াদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা অগ্রিম নিচ্ছে। আবার শেষে ভাড়াও নিচ্ছে বেশ।
পটুয়াখালী শহরের টাউন কালিকাপুর এলাকার মালয়েশিয়া নামে পতিতালয়ের ডানে ও বামে দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও এলাকায় কিভাবে তারা এমন জঘন্য কর্মকান্ড চালাতে সাহস পাচ্ছে তা নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রিকশাচালক সুরুজ মিয়া বলেন, হোটেল মালয়েশিয়া নামের ওই পতিতালয় লাগোয়া ডানপাশে রয়েছে আল-মাদরাসাতুল আরাবিয়া মিফতাহুল উলুম মাদরাসা। পতিতালয়ের বাম পাশে রয়েছে গাজী মুনিবুর রহমান নার্সিং কলেজ। প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাজারও ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত। কলেজ ও মাদরাসায় আসা যাওয়ার পথে ছাত্রীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করে হোটেল মালিক ও কর্মচারীরা। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপদগামী কতিপয় ছাত্রছাত্রী ওই পতিতালয় ঢুকে অবৈধ শারিরীক মেলামেশায় মেলামেশায় লিপ্ত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব বলেন,অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য সমাজে হোটেল ব্যবসার অন্তরালে বেশ্যা বৃত্তির কাজে ভীড় জমাচ্ছে গুটি কয়েক ভাসমান ব্যক্তি। মানুষকে তারা পাপাচারে লিপ্ত করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত। এছাড়াও শহরের এই হোটেল মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কক্ষ ভাড়া নিয়ে চলছে রমরমা মাদক ও দেহ ব্যবসা। এর সাথে চলছে ভয়ংকর অপরাধমূলক কর্মকান্ড। বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির কারনে অনেকটা প্রকশ্যেই ঘৃনীত দেহ ব্যবসা চলছে হোটেলে।
এমনকি এই হোটেলে মাদক সরবরাহের কারণে মাদক দ্রব্যে সয়লাভ হচ্ছে পটুয়াখালী শহর। এসবের কারণে লোভী ইয়াবা বাবুল টাকার নেশায় বিভোর হয়ে ব্যবসার নামে দেহ ব্যবসায় লিপ্ত হয়ে নষ্ট করছে সমাজ। এখানে মাদক ও নারী দিয়ে ফাঁদ পেতে বিভিন্নভাবে মওকা হাসিল করছে সে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে,হোটেল মালয়েশিয়ায় নির্বিঘ্নে মাদক বিক্রি ও দেহপসারিনির পতিতা বৃত্তি চলছে। এই হোটেলে দেহ ব্যবসার ফাঁদে ফেলে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
এখানে গোপন ক্যামেরার সাহায্যে শারীরিক মেলামেশার ভিডিও সংগ্রহ করে অনেককে ব্ল্যাকমেইল করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব অপকর্মের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইয়াবা বাবুল ও তার কর্মচারীরা।






