মৃত ব্যক্তির রিপোর্ট নিয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মোশাররফের প্রতারণা!

আপডেট: November 19, 2024

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

 

রিপোর্ট, শিকদার মাহবুব::

বরিশাল নগরের বাংলা বাজারে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তির রিপোর্ট নিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রিপোর্টের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে দুই দিন যাবত তাদেরকে

 ঘুরিয়েছে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ।

 

তবে বরিশালের সিভিল সার্জন চিকিৎসক মারিয়া হাসান বলেন,বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক স্যার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোঃ মিঠু বলেন,গত বুধবার হঠাৎ আমার বোন জামাই নিজাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার অম্বিকাপুর গ্রামের বাড়ি থেকে নিজামকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করি। তাত্ক্ষণিকভাবে নিজামের এমআরআই পরীক্ষা করতে পরামর্শ দেন মেডিসিন ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

 

মোশাররফের সঙ্গে চিকিৎসকের  সখ্যতা থাকায় তিনি নিজামের পরিবারকে  পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে  এমআরআই পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। পরামর্শ অনুযায়ী তারা বরিশাল নগরের বাংলা বাজারে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান।

 

এসময় এমআরআই পরীক্ষা করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে সাত হাজার টাকা দাবী করে পপুলারের এক রিসেপশনিস্ট। ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে টাকা না থাকায় তারা নিজামের পরীক্ষা করাতে অনীহা প্রকাশ করেন। কিন্তু চালাকচতুর ওই রিসেপশনিস্ট কৌশলে চৌদ্দ’শ টাকা ডিসকাউন্ট করে তাদেরকে ফাঁদে ফেলে দেয়।

 

একপর্যায়ে বুধবার দুপুরে নিজামের এমআরআই পরীক্ষা করা হয়। বুধবার রাতেই দশটার দিকে এসে রোগীর পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে যেতে বলা হয়। তাদের কথামতো পপুলারে গেলে বলা হয়,আপনার রোগী (নিজাম) পরীক্ষার সময়ে বেশ নড়াচড়া করেছে। যেকারণে তার রিপোর্ট হয়নি। আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুরে রোগী নিজামকে নিয়ে আবার এমআরআই রুমে আসবেন। পুনরায় তার এমআরআই পরীক্ষা করা হবে। কিন্তু নিজাম বুধবার রাতেই দুইটার দিকে শেবামেক হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

 

যেকারণে ভুক্তভোগী পরিবার পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ওই মৃত মানুষটাকে নিয়ে আর এমআরআই করতে যাননি।

 

তবে বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে নিজামের পরিবারের পক্ষ থেকে এমআরআই পরীক্ষার টাকা ফেরত চাওয়া হয়। এসময়ে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তৃতীয় তলায় অবস্থিত এমআরআই শাখায় কর্মরত টেকনোলজিস্টরা পরীক্ষা না হওয়ার কারণে রোগীর পরিবারকে রবিবার(১৭ নভেম্বর) ওই টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

কিন্তু রবিবার বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশাররফ ভুক্তভোগী পরবিবারকে টাকা ফেরত দেওয়ার নাম করে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। মোশাররফের পক্ষ থেকে বলা হয়,নিজামের এমআরআই পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। এখন আর টাকা ফেরত দেওয়া যাবে না।

 

এদিকে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মোশাররফ বলেন,যে লোকটা টাকা নিতে এসেছিলেন,তিনি একটা ফালতু লোক। অনেক লোকজন নিয়ে আমার এখানে টাকা নিতে এসেছিলো। যেকারণে আমি টাকা ফেরত দেইনি। আর টাকা ফেরতও দেবো না।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শিকদার মাহাবুব