আপডেট: September 14, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক ::
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২৩ শিক্ষককে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও বিধি অনুসারে যোগ্য ড. আবদুল কাইয়ুমের পদোন্নতি আটকে থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত ববির ৯৫তম সিন্ডিকেট সভায় ২৪ জন শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিষয়টি উত্থাপিত হয়। সভায় ২৩ জনের পদোন্নতি চূড়ান্ত করা হলেও মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রক্টর ড. আবদুল কাইয়ুমকে পদন্নোতি না দিয়ে বিষয়টি অধিকতর খতিয়ে দেখার জন্য সুপারিশ করা হয়।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত ২৩ শিক্ষক হলেন—কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ড. হাফিজ আশরাফুল হক, ইতিহাস বিভাগের ড. আবদুল বাতেন চৌধুরী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ড. তারেক মাহমুদ আবির ও ড. মো. সাদিকুর রহমান, রসায়ন বিভাগের ড. হালিমা বেগম, ড. মো. নাজমুল কায়েস, ড. মাসুদ পারভেজ ও ড. গাজী জহিরুল ইসলাম, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ড. প্রবীর কুমার ভৌমিক, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ড. জামাল উদ্দিন, গণিত বিভাগের ড. শাখাওয়াত হোসেন, বিজন কৃষ্ণ সাহা, ড. হেনা রানী বিশ্বাস ও ড. শফিউল আলম, কম্পিউটার সায়েন্সের ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল, লোকপ্রশাসন বিভাগের ড. ইসরাত জাহান লিজা, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যার ড. ধীমান কুমার রায়, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ড. সুব্রত কুমার দাস এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের ড. শাখাওয়াত হোসেন, ড. আবদুল্লাহ আল মাসুদ, ড. তাজিজুর রহমান, ড. সোহেল চৌধুরী ও আলমগীর মোল্লা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ড. আবদুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে তাঁর পদোন্নতি আটকে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই অভিযোগের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
অন্যদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের একটি অংশের প্রশ্ন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ২৩ শিক্ষকের কেউ কেউ যদি তৎকালীন প্রশাসনিক কাঠামো বা রাজনৈতিক প্রভাবের সময়ে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন তাহলে একই সময়ে কর্মরত ড. আবদুল কাইয়ুমের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো? তাঁদের মতে, পদোন্নতির ক্ষেত্রে সবার জন্য একই নীতিমালা ও মানদণ্ড প্রয়োগ করা উচিত। তবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ২৩ জন শিক্ষকের মধ্যে অনেকেই আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্য ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় আমাদের মতামত ছিল, যারা আগে অধ্যাপক হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাঁদের বিধি অনুসারে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক। সেইক্ষেত্রে আগ্রহী সবার পদোন্নতি হলেও তার বিষয়ে কেন এমন করা হয়েছে, এ ব্যাপারে তদন্ত করে পরবর্তী সভায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ড. আবদুল কাইয়ুমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মামুন অর রশীদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, অভিন্ন নীতিমালা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব মুক্ত পদক্ষেপ চান সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।






