আপডেট: September 15, 2026
অনলাইন ডেস্ক:
নীলফামারীর ডিমলা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ তিতপাড়া হাজীপাড়া গ্রামে শিশুদের মধ্যে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক চর্মরোগ ইমপেটিগো কনটাজিওসা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকটি পরিবারের ১২ থেকে ১৫ জন শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আক্রান্ত শিশুদের মুখ, নাক ও মুখের চারপাশে লালচে দানা ও ফোসকার মতো ক্ষত দেখা দিয়েছে। পরে এসব ক্ষত ফেটে তরল বের হয়ে শুকিয়ে হলুদাভ বা আঠালো আবরণ তৈরি হচ্ছে। কোনো কোনো শিশুর শরীরের অন্যান্য অংশেও ক্ষত ছড়িয়ে পড়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, ইমপেটিগো সাধারণত Staphylococcus aureus ও Streptococcus pyogenes ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়। শিশুদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষত থেকে বের হওয়া তরল বা সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শের মাধ্যমে রোগটি সহজে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত তোয়ালে, কাপড়, বিছানাপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী ভাগাভাগি করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আতিকুর রহমান খান বলেন, ‘ইমপেটিগো অত্যন্ত সংক্রামক। তবে সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা হলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমে আসে।’
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা না করালে রোগটি শরীরের অন্যান্য অংশে এবং অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত শিশুকে অবহেলা না করে দ্রুত নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য নির্দেশনা অনুযায়ী, রোগের ধরন ও ক্ষতের পরিমাণ বিবেচনা করে চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম বা মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের পুরো কোর্স শেষ করাও জরুরি।
এলাকাবাসী জানান, আক্রান্ত শিশুদের কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে কবিরাজি ও অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো কোনো শিশুর রোগের প্রকোপ বেড়েছে বলেও তারা দাবি করেন। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার পাশাপাশি এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুর ক্ষত পরিষ্কার ও সম্ভব হলে ঢেকে রাখতে হবে। নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে এবং ক্ষত স্পর্শ করা বা চুলকানো থেকে বিরত থাকতে হবে। আক্রান্ত শিশুর কাপড়, তোয়ালে, বিছানার চাদর ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা যাবে না। এসব সামগ্রী নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা শুরু না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বা শিশুদের ভিড় হয় এমন স্থানে না পাঠানোর পরামর্শ রয়েছে। কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরুর পরও কিছু সময় সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। তাই শিশুকে স্কুলে পাঠানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রোগটি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তারা আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা, রোগের প্রকৃত বিস্তার নিরূপণ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।






