উজিরপুরে পল্লী চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টদের নিয়ে সেমিনার

আপডেট: September 17, 2026

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

উজিরপুর প্রতিনিধি ::: বরিশালের উজিরপুর উপজেলা গ্রামীন চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্রে পল্লী চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টদের নিয়ে চক্ষু সচেতনাতা বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।Geographic Reference

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উজিরপুর হাসপাতাল রোড় গ্রামীন চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট সাংবাদিক ও সচেতন মহলদের নিয়ে চক্ষু সচেতনাতা বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেমিনারে বক্তব্য দেন রুপাতলী গ্রামীন জিসি হাসপাতাল ব্যপস্থাপক মোঃ মাহাফিজুর রহমান,আউটরীচ কোঅডিনেন্টর মোঃ সোহাগ হোসেনসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তৃারা বলেন- গ্রামীন পর্যায়ে অনেক মানুষ চোখের সম্যায় আক্রান্ত হলে সময় মতো পরামর্শ ও চিকিৎসা নিতে পারেনা। মাঠপর্যায়ে চক্ষু চিকিৎসা বিষয়ে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন ও সাধারণ মানুষের মাঝে চক্ষু সেবা পৌঁছে দেওয়াই এ সেমিনারে অন্যতম লক্ষ্য। একটি গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ যখন অসুস্থ বোধ করেন, তখন তারা প্রথমে কোনো বড় হাসপাতালে যান না। তারা সবার আগে ছুটে যান আপনাদের কাছে—আমাদের পল্লী চিকিৎসক এবং ফার্মাসিস্টদের কাছে। তাই গ্রামীণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আপনাদের ভূমিকা অনন্য এবং অপরিসীম। আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি চোখের যত্নের মতো একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে। চোখ আমাদের শরীরের সবচেয়ে মূল্যবান অঙ্গগুলোর একটি। কিন্তু সচেতনতার অভাব এবং সঠিক চিকিৎসার অভাবে আমাদের গ্রামীণ অঞ্চলের বহু মানুষ অন্ধত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি চোখের সমস্যায় ভোগেন। আর এখানেই আপনাদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তারা আরও বলেন- পল্লী চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট হিসেবে চোখের সেবায় আপনাদের প্রধান দায়িত্বগুলো মূলত তিনটি: সঠিক পরামর্শ ও প্রাথমিক স্ক্রিনিং সাধারণ চোখের সমস্যা চোখ ওঠা, চুলকানি বা সামান্য লাল হওয়া এবং দৃষ্টিশক্তির জটিলতার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারা। রোগীদের প্রাথমিক পরীক্ষা করে দ্রুত গ্রামীণ চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্রের মতো বিশেষজ্ঞ হাসপাতালে পাঠানো আপনাদের বড় দায়িত্ব। গ্রামীণ এলাকায় এখনো অনেকে চোখের সমস্যায় কবিরাজি চিকিৎসা, গাছড়ো লতা-পাতার রস বা ক্ষতিকর ড্রপ ব্যবহার করেন। ফার্মাসিস্ট ও চিকিৎসক হিসেবে আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন কেউ না বুঝে চোখের মতো সংবেদনশীল অঙ্গে কোনো ভুল ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহার না করে। বিশেষ করে স্টেরয়েড জাতীয় ড্রপের অপব্যবহার চোখ চিরতরে অন্ধ করে দিতে পারে। হুট করে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, চোখে তীব্র ব্যথা,বা চোখে ছানি পড়া,এতে দেরি না করে তাদেরকে ওই কেন্দ্রে গিয়ে একটি সঠিক এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত একটি মানুষকে চিরকালের অন্ধত্বের হাত থেকে বাঁচাতে পারে।আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি দল হিসেবে কাজ করি। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা আর আমাদের এই কেন্দ্রের আধুনিক চিকিৎসাসেবা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমরা আমাদের গ্রামীণ এলাকাকে অন্ধত্বমুক্ত এবং সুস্থ চোখের এক সুন্দর সমাজ হিসেবে গড়ে তুলি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
সম্পাদকঃ শিকদার মাহাবুব