আপডেট: November 4, 2026
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর বাউফলে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের নির্ধারিত কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে না। অব্যবহৃত পড়ে থাকায় কার্যালয়টির চারপাশে জমেছে ময়লা-আবর্জনা, গজিয়েছে ঝোপঝাড়। বারান্দায় রাখা হয়েছে লেপ-তোশক তৈরির মালামাল। এতে প্রয়োজনীয় সেবা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বাউফল উপজেলার পুরাতন হাসপাতাল এলাকায় অবস্থিত স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের কার্যালয়টি তালাবদ্ধ। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। কার্যালয়সংলগ্ন সরকারি জায়গা ঢেকে গেছে গাছপালা ও ঝোপঝাড়ে। বারান্দায় রাখা হয়েছে লেপ-তোশক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম। এমনকি কার্যালয়ের সামনে নেই কোনো সাইনবোর্ড। সব মিলিয়ে স্থাপনাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এম এম শাহাবুদ্দিনকে নির্ধারিত কার্যালয়ে নিয়মিত পাওয়া যায় না। তিনি কোথায় বসে দাপ্তরিক কাজ করেন, তাও জানেন না সাধারণ মানুষ। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে অনেককে ফিরে যেতে হয়।
সেবাগ্রহীতা সোহেল রানা বলেন, ‘এই কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাজে এসে কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। কার্যালয় বন্ধ থাকে। কোথায় গেলে সেবা পাওয়া যাবে, তা নিয়েও বিপাকে পড়তে হয়।’
আরেক সেবাগ্রহীতা মামুন হাওলাদার বলেন, ‘সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের এমন অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। কার্যালয়ের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ও ঝোপঝাড় জমে আছে। অথচ এই বিভাগের কাজই হলো স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা।’
এ বিষয়ে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এম এম শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘প্রায় পাঁচ মাস ধরে কার্যালয়ে বিদ্যুৎ-সংযোগ নেই। বন্যার সময় সংযোগ বিচ্ছিন্নের পর থেকে সেখানে আর বসা হয় না। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কাজ থাকায় নিয়মিত কার্যালয়ে বসা সম্ভব হয় না।’
তবে সরেজমিনে কার্যালয়টিতে বিদ্যুৎ-সংযোগ দেখা গেছে। দীর্ঘদিন নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় ভেতরে থাকা আসবাবপত্রও নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, ‘কার্যালয়টি মেরামত করা প্রয়োজন। এ কারণে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারীর কক্ষে বসে দাপ্তরিক কাজ করেন। কার্যালয়টি সংস্কারের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর কোথায় বসে কাজ করেন, তা তিনি নিশ্চিতভাবে জানেন না। তবে ওই কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে কাজ করেন বলে শুনেছেন।






