বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম দ/খ/ল ক’র’বে’ন বিজেপি নেতা!

আপডেট: November 7, 2026

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রিপোর্ট, বিডি ক্রাইম পেট্রোল
বাংলাদেশের তিন অঞ্চল দখলের ইঙ্গিত! নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম ‘পুনরুদ্ধারের’ দাবি বিজেপি নেতার
বাংলাদেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে। তাঁর এমন বক্তব্য ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশিকান্ত দুবে বলেন, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি দেশভাগের সময় ভারতের হাতছাড়া হওয়া অঞ্চলগুলোও ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। এ সময় তিনি বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দরের নাম উল্লেখ করেন।

বিজেপির এই সংসদ সদস্যের দাবি, এসব অঞ্চল একসময় ত্রিপুরার টিপরা রাজ্যের অংশ ছিল। দেশভাগের সময় তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম সিংহ এসব অঞ্চল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর আপত্তি উপেক্ষা করে নেহরু সরকার অঞ্চলগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করেছিল।

সাক্ষাৎকারে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর দাবি, ১৯৪৬ সালে নোয়াখালীতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় নেহরু ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে মুসলিম লীগকে সরকারে যুক্ত করা নিয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন। এ সময় নোয়াখালীতে এক দিনে প্রায় ১০ হাজার হিন্দু নিহত হওয়ার দাবিও করেন তিনি। তবে এ সংখ্যার পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রামাণ্য সূত্র তুলে ধরেননি।

চট্টগ্রাম বন্দরকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে দুবে বলেন, এই বন্দরে প্রবেশাধিকার থাকলে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ও বাণিজ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসত। অঞ্চলটির খনিজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পূর্ণ ব্যবহারেও সুবিধা হতো।

এদিকে ত্রিপুরার রাজপরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টিপরা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোৎ বিক্রম মানিক্য দেববর্মাও দেশভাগের সময় ত্রিপুরার ঐতিহাসিক ভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রসঙ্গ তুলেছেন।

তবে ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার অংশ ছিল। অন্যদিকে সিলেটের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়েছিল ১৯৪৭ সালের গণভোটের মাধ্যমে। ত্রিপুরা ছিল পৃথক দেশীয় রাজ্য। ফলে তিনটি অঞ্চলই ত্রিপুরার অংশ ছিল—এমন দাবির ঐতিহাসিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিজেপির এই সংসদ সদস্যের বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বাংলাদেশের জনবহুল অঞ্চলকে ভারতের ‘পুনরুদ্ধারযোগ্য’ ভূখণ্ড হিসেবে উল্লেখ করায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে নিশিকান্ত দুবে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য হলেও তাঁর বক্তব্যকে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ভারতের সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
সম্পাদকঃ শিকদার মাহবুব