আপডেট: September 11, 2026
লেখক : অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার::
অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ মরুভূমির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল লালচে পাথরের পাহাড়। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সমতল মরুভূমির বুক চিড়ে কোনো দৈত্যাকার পাথরের প্রাচীর উঠে এসেছে। এই অনন্য ভূ-প্রাকৃতিক বিস্ময়ের নাম উলুরু। অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত উলুরু পৃথিবীর অন্যতম পরিচিত প্রাকৃতিক স্থাপনা।
উলুরুকে অনেক সময় ‘পাথরের পাহাড়’ বলা হলেও ভূতাত্ত্বিকভাবে এটি একটি বিশাল বেলেপাথরের শিলাখণ্ড। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৮৬৩ মিটার এবং আশপাশের সমতল ভূমি থেকে এটি প্রায় ৩৪৮ মিটার উঁচু। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং চারপাশের পরিধি প্রায় ৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার। মরুভূমির সমতল ভূদৃশ্যের মধ্যে একক বিশাল শিলা হিসেবে এর উপস্থিতি একে আরও নাটকীয় করে তুলেছে।
উলুরুর সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য এর রং। দিনের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলো ও আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর গায়ের রংও বদলে যায়। ভোরের নরম আলোয় এটি হালকা কমলা বা গোলাপি দেখাতে পারে; আবার সূর্য যখন মাথার ওপর থাকে, তখন উলুরু গাঢ় লালচে-বাদামি রূপ ধারণ করে। সূর্যাস্তের সময় এর রং আরও গভীর ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। শিলার মধ্যে থাকা লৌহজাত খনিজ দীর্ঘদিনের আবহবিকার ও জারণের ফলে বাইরের অংশে লালচে আবরণ তৈরি করেছে।
তবে উলুরুর গুরুত্ব শুধু ভূতত্ত্ব বা সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী আনাঙ্গু জনগোষ্ঠীর কাছে অত্যন্ত পবিত্র। তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও পূর্বপুরুষদের সঙ্গে উলুরুর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। শিলার বিভিন্ন গুহা, ফাটল, জলাধার ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু প্রজন্মের সাংস্কৃতিক ইতিহাস।
উলুরু-কাটা জুটা ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত এই শিলাখণ্ড প্রতি বছর অসংখ্য দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। তবে প্রকৃতির এই বিস্ময় উপভোগের পাশাপাশি এর সাংস্কৃতিক মর্যাদা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই উলুরুকে শুধু একটি পাথরের পাহাড় হিসেবে নয়, প্রকৃতি, ভূতত্ত্ব ও মানবসভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসের এক জীবন্ত স্মারক হিসেবে দেখা উচিত।
লেখক : পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়






