বরিশাল সদরের মোহরার হতে শাহীনের এলার্জী রোগ!

আপডেট: October 17, 2026

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রিপোর্ট, শিকদার মাহবুব:
বরিশালে চরম বিতর্কিত একজন মোহরার ( সহকারী নথী-রক্ষক) নাম শাহিন ওরফে রুল শাহিন। বরিশাল সদর উপজেলার চরআইচা তার বাড়ি। তবে তিনি চরআইচার চরের ধুলাবালি চায়নি! বরিশাল রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের রেকর্ড রুমের ধুলাবালিও তার পছন্দ নয়। তার পছন্দ বরিশাল সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ধুলাবালি!

এমনটাই লিখিত ভাবে বাংলাদেশ নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহা-পরিদর্শককে জানিয়েছেন রুল শাহিন। এই কাজের সাক্ষি হিসেবে লিখিতভাবে দালালী করেছেন বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ্র চন্দ।

শাহীন বর্তমানে বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মহাফেজখানায় রেকর্ড রুমে মোহরার পদে কর্মরত রয়েছেন।

কিন্তু তিানি বাংলাদেশ নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহা-পরিদর্শক বরাবর একটি আবেদন করেছেন বরিশাল সাব- রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের রেকর্ড রুমের মোহরার পদে আসার জন্য। চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বদলিজনিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে শাহীন এলার্জী ও এ্যাজমা রোগে আক্রান্ত। ওই আবেদনে আরো বলা হয়েছে, শাহীন বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের জেলা রেজিস্ট্রিশন মহাফেজখানায় ধুলাবালীর মধ্যে কাজ করতে পারছেন না। তিনি এলার্জী ও এ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারনে বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে মোহরার পদে বদলি হতে চাইছেন।

আবেদনের সঙ্গে বরিশালের চর্ম ও যৌন ডাক্তার মোঃ রেজওয়ান কায়সারের স্বাক্ষর করা একটি পেসক্রিপশনের ফটোকপি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। একইসাথে আরেকজন মেডিসিনের ডাক্তার মোঃ মাহাদি হাসানের পেসক্রিপশন রয়েছে।

এদিকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শাহীনের ওই ধুলাবালী মিশ্রিত আবেদনের পক্ষে সাফাই গেয়ে দালালী করেছেন বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের হেডক্লার্ক মহাদেবও ।

এদিকে রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ্র চন্দ শাহীনের পক্ষে বাংলাদেশ নিবন্ধন অধিদপ্তরে একটি আবেদনে সুপারিশ করেন। যার স্মারক নম্বর ১০.০৫.০৬০০.০০১.৯৯.০০১.২৬-৩০৮২। তিনিও শাহীনের এলার্জি ও এ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি আবেদনে উল্লেখ করেন। এমনকি মোহরার কক্ষের ধুলাবালীর কথাও তাতে বাদ যায়নি।

এখন প্রশ্ন হলো- চাটুকার শাহীন যদি সত্যিই এলার্জি ও এ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে,তাহলে কেন তাকে সদর উপজেলার ধুলাবালিযুক্ত রেবর্ড রুমে ফের মোহরার দায়িত্ব দেওয়া হবে? নাকি এখানকার মোহরার কক্ষের ধুলাবালী শাহীনের জন্য ওষুধ? নাকি মোহরার কক্ষের ধুলাবালীতে লুকিয়ে রয়েছে টাকা আর টাকা। যা কুড়িয়ে নেওয়ার জন্য শাহীন ওৎ পেতে রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারী বলেন,শাহিনের এলার্জি রোগ থাকলে তিনি ধুলাবালীযুক্ত কক্ষে কেন কাজ করবেন। তিনি শুধুই রেকর্ড রুম খুজবেন কেন? রেকর্ড রুম ছাড়াও তো অন্য কক্ষে কাজ করতে পারেন তিনি। মূলত শাহিনের শরীরে নয়- মনের মধ্যে এলার্জী জেগেছে সদরের মোহরার পদের জন্য। শাহীনের এমন এলার্জীর আবেদন, সত্যিই বরিশালবাসীর জন্য এ্যাজমা রোগের মতো সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।

এদিকে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে শাহীনের আসল এলার্জী কোথায়? শাহীনের আসল এলার্জী হচ্ছে বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে ফের খুটি গারা। কারন, এর আগে একটানা ৮ বছর বরিশাল সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে মোহরার পদে ঘুস-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকা কামিয়েছেন সে। ঘুস-দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারন সেবাগ্রহীতাদেরকে হয়রানী করার অভিযোগে ফের বাবুগঞ্জের রহমতপুরে শাস্তিমূলক বদলিও করা হয় তাকে।

তারপরও দমে যায়নি শাহিন।তরিঘড়ি করে আবার বরিশালে আসার পায়তারা করলে তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ মোহছেন মিয়া তাকে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর সদর কার্যালয়ে না দিয়ে রেকর্ড রুমে বদলি করেন।সেই থেকে শাহীন নানা ষড়যন্ত্র ও অপকৌশলে সদরে মোহরার পদে আসার জন্য ওপর মহলে ফের পায়তারা করে আসছে। কিন্তু সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে ১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই শাহীনের এলার্জি দেখা দিয়েছে,সাবেক কর্মস্থল বরিশাল সদরে ফিরে যেতে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার স্বদেশ চন্দ্র চন্দ ও মোহরার মোঃ শাহিন হাওলাদারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা রিসিভ হয়নি।

তবে বরিশাল জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের হেডক্লার্ক মহাদেব বলেন, মোহরার পদে ২ জন আবেদন করেছেন। তারা হলেন শাহিন ও জসিম। আমার এক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা নেই। যে নিয়োগ পাবে সে এখানে কাজ করবেন।

এদিকে বাংলাদেশ নিবন্ধন অধিদপ্তরের সহকারী মহা-পরিদর্শক (এস্টেট, উন্নয়ন, তথ্য ও জনসংযোগ এবং আইন, তদন্ত ও মতামত) মোঃ আব্দুল বারী বলেন, জেলা রেকর্ড রুমে ধুলাবালী বেশি থাকে। সদর উপজেলার রেকর্ড রুমে একটু কম ধুলাবালী থাকে। তারপরও আপনি (প্রতিবেদক) যখন বলেছেন আবেদনকারীর রোগ সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হবে।

 

 

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
সম্পাদকঃ শিকদার মাহবুব