আপডেট: October 26, 2026
রিপোর্ট, শিকদার মাহবুব::
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালের পুরুষ অর্থপেডিক্স ওয়ার্ডের ইনচার্জ ও বিতর্কিত ব্রাদার শাহ আলমকে সরিয়ে নেওয়ার গুঞ্জন উঠেছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে কথা হলে অর্থপেডিক্স বিভাগের ডাক্তার শিহাব উদ্দিন বলেন, আমি মাত্র একটি ইউনিটের দায়িত্ব পালন করি। অর্থপেডিক্স বিভাগের প্রধান হচ্ছেন, কামরুদ্দোজা হাফিজুল্লাহ স্যার। আপনি (সাংবাদিক) স্যারের সাথে কথা বলেন। তাছাড়া আমি ব্রাদার শাহ আলমকে ইনচার্জ পদ থেকে সরানো হয়েছে কিনা, জানিনা।
এদিকে জানা গেছে, একমাস আগে শাহ আলমকে সরিয়ে নেওয়া হলেও অপকৌশল প্রয়োগ করে নবাগত ইনচার্জকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছেনা। এমনটাই অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের একাধিক নার্স ও কর্মচারী।
এখানকার একাধিক দায়িত্বরত নার্স ও কর্মচারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) অভিযোগ করেছেন, অর্থপেডিক্স বিভাগের ডাক্তারদের সাথে সখ্যতা থাকার কারনে ব্রাদার শাহ আলমকে সরিয়ে নিতে গড়িমসি করা হচ্ছে। কারন, ব্রাদার শাহ আলম অর্থপেডিক্স ওয়ার্ড থেকে রোগী ভাগিয়ে বাহিরের ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এসব ক্লিনিকে শেবামেক হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগের ডাক্তাররা চেম্বার করেন।
বাহিরের ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ায় শাহ আলমকে ডাক্তাররা মোটা অংকের কমিশন দেন। পাশাপাশি হাসপাতালের অর্থপেডিক্স ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের ভাঙা হাত-পা প্লাস্টার ও ড্রেসিং করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেন শাহ আলম।
শাহ আলমের অপকর্মের বিষয়ে কথা হলে অর্থপেডিক্স বিভাগের প্রধান ডাক্তার কামরুদ্দোজা হাফিজুল্লাহ বলেন, নাউজুবিল্লাহ! আমাদের ডাক্তারদের সাথে ব্রাদার শাহ আলমের কোনো সখ্যতা নেই। ব্রাদার শাহ আলমকে ইনচার্জের পদ থেকে সরানোর বিষয়ে নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট ভালো জানবেন। যেহেতু সে নার্সিং সেক্টরে কাজ করেন। তবে আমি শাহ আলমকে দুদিন আগেও অর্থপেডিক্স ওয়ার্ডে কাজ করতে দেখেছি।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী শাসনামলে আওয়ামী সংগঠন- স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ (স্বানাপ) শেবামেক হাসপাতাল শাখা কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পদে ছিলেন বিভিন্ন অপকর্মের ঢেঁকি এই শাহ আলম।
আওয়ামী প্রভাব দেখিয়ে প্রথম দফায় হাসপাতালের পুরুষ অর্থপেডিক্স ওয়ার্ডে ইনচার্জের পদ দখল করেন তিনি। পাশাপাশি প্রসূতি ওয়ার্ডের ইনচার্জ পদ দখলে নেন তার স্ত্রী সালমা বেগমকে দিয়ে।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শাহ আলম ভোল পাল্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি ব্যানার সাটিয়ে দেন হাসপাতালের নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট কক্ষের সামনে। শাহ আলমের এমন বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে তখন হাসপাতালের নার্সদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু হাসপাতাল প্রশাসন তার অপকর্মের বিষয়টি এরিয়ে যায়।
একপর্যায়ে দ্বিতীয় দফায় জোড়পূর্বক একই ওয়ার্ডের ইনচার্জের পদ দখল করেন শাহ আলম। গত সেপ্টেম্বর মাসে তাকে সরিয়ে নেওয়া হলে এখনও একই ওয়ার্ডে খুঁটি গেড়ে বসে রয়েছেন তিনি। তবে শাহ আলমকে ইনচার্জ পদ থেকে সরিয়ে নেওয়ার অফিসিয়াল চিঠি এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, এই ওয়ার্ডে নবাগত ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিনিয়র স্টাফ নার্স জোৎস্না বেগমকে।
হাসপাতালের একাধিক দায়িত্বরত নার্স ও কর্মচারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, মেয়াদ শেষ হলে- একটি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে চলে যান। আরেকজন ওসি এসে থানার দায়িত্ব নেন। সাবেক ওসির ওই থানায় অস্তিত্ব থাকেনা।কিংবা আইন অনুযায়ী ওই থানায় সাবেক ওসির বদলি হবেনা। এমনকি ওই থানার সাবেক ওসি ও বর্তমান ওসি একই থানায় কাজ করেনা, তারা পৃথক থানায় কাজ করেন।
কিন্তু দেখবেন আমাদের হাসপাতালে রয়েছে তার উল্টো- নোংরা চিত্র। একসময় হাসপাতালের অর্থপেডিক্স ওয়ার্ডে অফিসার ইনচার্জ ছিলেন ব্রাদার শাহ আলম। একই ওয়ার্ডে ফের ইনচার্জ হয়ে বর্তমানে কাজ করছেন তিনি।
আবার একজনকে ইনচার্জ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে বর্তমান ইনচার্জের অধীনে কিভাবে কাজ করেন সাবেক ইনচার্জ? লজ্জা থাকা উচিৎ শাহ আলমের।
আপনি (সাংবাদিক) দেখবেন, হাসপাতালের ডাক্তাররা বলবেন শাহ আলম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন নার্স। তাকে ওয়ার্ড থেকে সরানো যাবে না। তাহলে আমাদের প্রশ্ন, শাহ আলম ব্যাতীত হাসপাতালের সকল নার্স কী অনভিজ্ঞ?
শাহ আলম এক শিফটে ডিউটি করেন। হাসপাতালে তিন শিফটে ডিউটি চলমান থাকে। বাকি শিফটে তো শাহ আলম ডিউটি করেননা। এতে করে কী হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে গেছে। না, শাহ আলমের চাইতেও ভালো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নার্স এই হাসপাতালে রয়েছে। কিন্তু কতিপয় ডাক্তার ও নার্সিং সুপারিন্টেন্ডের দালালী না করার কারনে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এসব নার্সকে ইনচার্জের পদে বসানো হয়না।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষাতে কথা বলতে গেলে, অর্থপেডিক্স ওয়ার্ডে বিতর্কিত ব্রাদার মোঃ শাহ আলমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। যেকারনে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট খাদিজা পারভীন বলেন, ব্রাদার শাহ আলমকে ওয়ার্ডের ইনচার্জ পদ থেকে সরানোর বিষয়টি,আমি জানিনা। আপনি তো এখানকার নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট, আপনার তো ভালো জানার কথা? এমন প্রশ্ন করা হলে খাদিজা পারভীন বলেন, ব্রাদার শাহ আলমকে ওয়ার্ডের ইনচার্জ পদ থেকে সরাতে নিষেধ করেছেন হাসপাতাল পরিচালক।






