আপডেট: October 27, 2026
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মহাদেবপুরে টিকটকার মাসুদ রানার স্ত্রী থাকার পরও শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তার মুখে চুনকালি মাখিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়।
Advertisement
টিকটকার মাসুদ রানার এই বিয়ে নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এরপর ফেসবুক লাইভে এসে দর্শকদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি। লাইভে দুই বোনকে একসঙ্গে বিয়ে করার ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানেন বলেও মন্তব্য করেন। এ নিয়ে সমালোচনা আরও বাড়ে।
Advertisement
পরে নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী শাহীন কাদির ডলার তাকে নিজের সেরেস্তার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
Advertisement
এরপর এই পরিস্থিতির মধ্যে বদলগাছীর ভাড়া বাসা ছাড়তে তিন ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন স্থানীয়রা। পরে ভাড়া বাসার আসবাবপত্রসহ দুই স্ত্রীকে সঙ্গে করে মহাদেবপুরের মাতাজিহাট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিতে যান মাসুদ রানা। সেখানে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তাকে অবরুদ্ধ করে এবং মুখে কালি ও জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয় জনতা।
পরে রাইগাঁ পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে মুক্ত হয়ে দুই স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে সেখান থেকে চলে যান তিনি। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ওই রাতেই ১১টার দিকে বদলগাছীতে আবারও দেখা যায় মাসুদ রানাকে। এ সময় একজন সচেতন নাগরিক তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। পরে ভিডিও বার্তায় নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চান তিনি। কাজটি ভুল স্বীকার করে এক স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং ভবিষ্যতে ওই এলাকায় আর যাবেন না বলে জানান।
একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্ক, কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি, এলাকা ছাড়ার পরিস্থিতি এবং শেষপর্যন্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনায় নওগাঁ জেলাজুড়ে আলোচনা চলছে। তবে তালাক দেওয়ার ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জেলা কাজী সমিতির সভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তার আপন বোনকে বিয়ে করা শরিয়তসম্মত নয়। তবে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটলে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী বিয়ের সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






