আপডেট: September 21, 2022
স্টাফ রিপোর্টার
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালে নানা অপকর্মের অনুঘটক ও চাঁদাবাজ নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট (মেট্রোন) সুফিয়া বেগম এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে। হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে বিভিন্নরকমে চাঁদাবাজি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজির ঘটনায় মেট্রন সুফিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশও (শোকজ) দিয়েছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তর (ডিজিএনএম)। উপসচিব মোঃ রাশেদুল মান্নাফ কবীর স্বাক্ষরিত এক নির্দেশে গত ১১ আগস্ট তাকে শোকজ করা হয়। শোকজে বলা হয়, “সিলেট ও সুনামগঞ্জের সাম্প্রতিক বন্যায় বন্যার্তদের সাহায্য করার নামে অবৈধভাবে চাঁদা উত্তোলন করা হয়। এমনকি পরিচালকের নির্দেশ অমান্য করে নিজেকে সভাপতি করে চাঁদা উত্তোলন কমিটি গঠন করা হয়। অতঃপর ২ লক্ষ ৯২ হাজার ৬০০ টাকা চাঁদা উত্তোলন করে সে। তার এহেন কর্মকাণ্ড অসাদাচরণের সামিল। এমতাবস্থায়, উল্লেখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার জবাব পত্র প্রাপ্তির ৭ কার্য দিবসের মধ্যে দাখিলের জন্য তাকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।” কিন্তু সে ডিজিএনএম’র নির্দেশ অমান্য করে ১৫ দিন পর ওই শোকজের জবাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও যোগদানের পর থেকে হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের কাছ থেকে গত রমজান মাসে ইফতার পার্টি ও নার্সেস দিবস উপলক্ষে লক্ষাধিক টাকার চাঁদাবাজি করে সে। তার এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে কর্মরত নার্সদের বিভিন্ন উপায়ে কৈফিয়ত তলব করা হয়। সর্বশেষ সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের সহায়তা করার নামে জোরপূর্বক নার্সিং অফিসারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে সে।একজন সরকারি কর্মকর্তার সরাসরি চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়মবহির্ভূত কাজ ছিলো। ওই চাঁদাবাজি কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন ব্রাদার সাহালম ফকির। সাহালম বর্তমানে হাসপাতালের পুরুষ অর্থপেডিক ওয়ার্ডে ইনচার্জের দায়িত্বে রয়েছে। অন্যদিকে ওই চাঁদাবাজি কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন ব্রাদার মোসলেম খা সহ অনেকে। তবে কথা হলে নার্সিং সুপারিন্টেন্ডেন্ট সুফিয়া বেগম বলেন, ‘শোকজের বিষয়টি হাসপাতাল পরিচালক স্যার ভালো জানেন’। এদিকে পরিচালক ডাঃ এইচ.এম.সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ত্রাণ কমিটি নিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনায় ডিজিএনএম তাকে শোকজ করেছে। জবাবও সে দিয়েছে। এখন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ডিজিএনএম। এখানে আমার কিছু বলার বা করনীয় নেই’।






