আমতলীর মেয়র মতিয়ার রহমান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকে মামলা

আপডেট: December 1, 2021

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বরগুনার আমতলী পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৯ নভেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওমর ফারুক বাদী হয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এর পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২২ অগস্ট ২০১৯ তারিখ দুদক আমতলী পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমানকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ প্রদান করে। ওই আদেশের পর ৭ নভেম্বর ২০১৯ তারিখ মতিয়ার রহমান সম্পদ বিবরণী কমিশনে দাখিল করেণ।

এরপর ২৮ নভেম্বর ২০১৯ তারিখ দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওমর ফারুককে মেয়র মতিয়ার রহমানের দাখিলকৃত সম্পদের বিবরণি তদন্তের দায়িত্ব দেয় কমিশন।

মামলার বিবরণীতে তদন্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক উল্লেখ করেন, কমিশনের দাখিকৃত সম্পদ বিবরণীতে মেয়র দুই কোটি ৫৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬০০ টাকা স্থাবর ও অস্থাবর ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ২ কোটি৬৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকার সম্পদের মালিক ঘোষণা দিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মতিয়ার রহমানের প্রকৃত সম্পদ চার কোটি ৭৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৯০ টাকার স্থাবর সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন।

মতিয়ার রহমানের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর স্থাবর অংশের ক্রমিকে-৩১ বর্নিত বাড্ডা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল নং- -১২১৫৫, তারিখ-৩০-১২-২০১২ খ্রিঃ মুলে ইষ্টার্ন হাউজিং লিমিডেট, এর অনুকুলে আফতাবনগর হাউজিং প্রকল্প, বাড্ডা, ঢাকায় প্লট নং সি-৬৯ রোড-০৩-ব্লক –সি এর .০৫৩০ একর সম্পত্তি অর্ধেক ক্রয় বাবদ ৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছেন মর্মে ঘোষণা দেন। কিন্ত ওই প্লট বাবদ তিনি দুই কোটি ২৫ লাখ ১০ হাজার ২৯২ টাকা ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে চেক ও নগদ অর্থে পরিশোধ করেছেন।

কিন্ত বিবরণীতে তিনি ৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা উল্লেখ করে এক কোটি ৬৪ লাখ ৫ হাজার ১৪৬ টাকার তথ্য কমিশনের দাখিলকৃত বিবরণিতে গোপন করেছেন। একইভাবে বিবরণীর ৩২ ক্রমিকে একই হাউজিং এর অন্য একটি প্লটে .০৫৪৫ একর সম্পত্তির অর্ধেক ক্রয় বাবদ রেজিষ্ট্রেশনসহ মোট ৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা বিররণীতে উল্লেখ করলেও প্রকৃত পক্ষে এক কোটি ১৬ লাখ ৪৯৪ টাকা পরিশোধ করেন এবং এক কোটি ৯ লাখ ৫৯৪ টাকার তথ্য গোপন করেছেন।

মেয়রের স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে করা মামলায় একই পরিমাণ অর্থ স্বামীর ভোগদখলে রাখার ক্ষেত্রে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে স্বামী- স্ত্রীর যৌথ নামে কেনা ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের প্লটের তথ্যও বিবরণীতে গোপন করা হয়েছে। মতিয়ার রহমানও স্ত্রী নুসরাত জাহান উভয়ের বিরুদ্ধে দুই কোটি ১৪ লাখ ৬৯ হাজার ২৪০ টাকা মূল্যমানের সম্পদ গোপন ও ভোগ দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারা ও ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করাসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওমর ফারুক বাদী হয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ সোমবার একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৫।

দুদক কর্মকর্তা ওমর ফারুকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আসামীদের বিরুদ্ধে তদন্তে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ভোগদখলের প্রমান থাকায় বিধিমোতাবেক মামলা হয়েছে। অনুসন্ধানে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ভোগদখলের সমস্ত তথ্য উপাত্ত ও প্রমানাদি বের হয়েছে। এ বিষয়ে কমিশন বিধিমোতাবেক পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহন করবে।

এ ছাড়াও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়র দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেক সম্পত্তি আছে তার তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকার চেয়ারম্যান কাজী ফারুক এর কাছ থেকে কিছুদিন পূর্বে কিনেছেন নিজ নামে এক কোটি ৪১ লাখ টাকায় কিনেছেন, আমতলী মৌজার ৩৯৫ খতিয়ানের ১১০০-১১২৪নং দাগে ৫৩ শতাংশ জমি।

তিনি মতিয়ার রহমান মেয়র নির্বাচিত হবার পর অবৈধ ভাবে দখল করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি। নির্মাণ করেছেন মার্কেট বাসা বাড়ি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সহ অনেক স্থাপনা।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাইছার আলম বলেন, মেয়র মতিয়ার রহমানের দখলে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল মুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিষয়ে পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান মুঠোফোনে বলেন, আমার যে সম্পদের বিষয়ে দুদক মামলা দিয়েছে ওই সম্পদ বৈধ এবং বৈধতার সব কাগজপত্র আমার কাছে আছে। আমি দুদকের কর্মকর্তাদের সেসব একাধিকবার দেখিয়েছি। কিন্ত তারা কেন মামলা করল আমার বোধগম্য নয়। আসলে এখানে রাজনৈতিক একটি প্রতিপক্ষ দুদককে ব্যবহার করে আমায় হেনস্তা করার অপচেষ্টা করছে।

তাদের হামলার শিকার হয়ে আমার ভাগ্নে পঙ্গুপ্রায়। আমি বিষয়টি শিঘ্রই উচ্চাদালতে চ্যালেঞ্জ করবো।

উল্লেখ্য, মতিয়ার রহমান ২০১১ সালে মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৯ সালে আ.লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি দ্বিতীয়বার বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় আমতলী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শিকদার মাহাবুব