একজন মানবিক ডাক্তার মানবেন্দ্র দাস

আপডেট: December 4, 2021

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

শিকদার মাহাবুব
এমন কিছু মানবিক চিকিৎসক আছে, যারা নিজের পেশাকে সম্মান করে কাজকে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধে আগলে রেখেছেন। করোনার দুঃসময় থেকে অদ্যবধি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসেবায় নিজেকে বিভোর রেখেছেন। তেমনি একজন ডাক্তার হলেন মানবেন্দ্র দাস।

সম্প্রতি গ্রেডিং পদোন্নতি পেয়েছেন মানবেন্দ্র দাস। মানবেন্দ্র দাস বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে কর্মরত। করোনা অতিমারিতে যেখানে অধিকাংশ চিকিৎসক পলায়নপর ভূমিকায় ছিলেন, সেখানে ফ্রন্টলাইনার হিসেবে প্রথম থেকেই শেবামেক হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখেছেন মানবিক চিকিৎসকখ্যাত এই মানবেন্দ্র দাস।

মানবেন্দ্র দাসের মানবিকতায় মঠবাড়ীয়া উপজেলার আয়নাল মিয়া বেচে থাকার মতো আশার আলো দেখছে। বৃদ্ধ আয়নাল মিয়া দীর্ঘদিন কিডনি রোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। দিনমজুর আয়নাল মিয়ার অভাবের সংসারে তাকে দেখার মত কেউ নেই।

ডাঃ মানবেন্দ্র দাসের কথা লোকমুখে শুনে বাসযোগে আয়নাল মিয়া আসেন বরিশালে। বৃদ্ধ আয়নাল মিয়া নিজেই খুজে বের করেন ডাঃ মানবেন্দ্র দাসকে। এসময় সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফ্রী করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ফ্রী পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ও ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা নিয়ে দ্রুত সুস্থ্য হয়ে ওঠে আয়নাল মিয়া। এরকম হাজারও আয়নাল মিয়া রয়েছেন,য়ারা ডাঃ মানবেন্দ্র দাসের সঠিক চিকিৎসায় আরোগ্য লাভ করেছেন।

আয়নাল মিয়া বলেন, ‘আমি বৃদ্ধ মানুষ, দিনমজুরের কাজ করি।
আমার পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা সম্ভব নয়। ডাক্তার মানবেন্দ্র দাস যদি আমার চিকিৎসা না করত, তাহলে আমার বেচে থাকা হতো না। এমন দরদী ডাক্তার আমি আমার জীবনে দেখি নাই। তিনি আমাকে নতুন জীবন দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যিনি আমার চিকিৎসা বিনা খরচে করেছেন, আল্লাহ তা’আলা তাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন। আমি তাদের প্রতি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। আল্লাহ তাহার মঙ্গল করুন।’

এ বিষয়ে ডাঃ মানবেন্দ্র দাসের সাথে কথা হলে
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী একজন চিকিৎসকের কাজ হচ্ছে রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করা। আমি আমার সেই দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র।ডাঃ মানবেন্দ্র দাস আরও বলেন প্রশংসা কুড়ানোর জন্য নয়, দায়বদ্ধতা থেকে বিনা খরচে অনেক রোগীর চিকিৎসা দিয়েছি। এখনও দিচ্ছি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শিকদার মাহাবুব