“রোগীদের প্রহরী” মোমিনুর রহমান খান..

আপডেট: June 24, 2023

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রিপোর্ট, শিকদার মাহবুবঃ নাম তার মোমিনুর রহমান খান। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হ্যান্ডমাইক হাতে নিয়ে হাজারও রোগীদের সচেতন করে থাকেন। চরম গরমেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরে। শোনা যায় নানানরকম সচেতনতা তৈরিতে মগ্ন কন্ঠস্বরের। এসবের মধ্যে রয়েছে “দালাল থেকে সাবধান। হাসপাতালের দুইতলার প্যাথলজি বিভাগে সবধরনের পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। সরকারি খরচে কম টাকায় আপনি (রোগী) সব পরীক্ষা করাতে পারবেন। যদি কেউ আপনার টিকিট নিয়ে হাসপাতালের বাহিরে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে  নিয়ে যায় তাহলে বুঝবেন সে একজন দালাল। আদেশক্রমে হাসপাতাল কতৃপক্ষ। ” মোমিনের এমন সচেতনতামূলক কথা শুনে রোগী ও রোগীর স্বজন আরও সচেতন হয়। হাসপাতাল পরিচালক ডাঃ এইচ.এম.সাইফুল ইসলাম সম্প্রতি এমন সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেন। যা আগে কখনও দেখা যায়নি।

আর এ কারণে বর্তমানে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে উপচে পড়া রোগীর ভীড় জমে। চিকিৎসা নিতে  আসা রোগীদের চাপ সামাল দিতে ইতিমধ্যে পরীক্ষানিরীক্ষা ফরম বিক্রি করার জন্য দুইটি কাউন্টার খোলা হয়েছে। তারপরও রোগীদের চাপ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মচারীদের। এর মধ্যে সিটি স্ক্যান মেশিন চালু থাকার কারণে খুশি ধনী-গরীব রোগীরা। কারণ হাসপাতালের বাহিরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিটি স্ক্যান করতে হলে ৩০০০-৪০০০ টাকার প্রয়োজন। অন্যদিকে হাসপাতালে মাত্র ২০০০ টাকায় সিটি স্ক্যান করা হয়। ইসিজি মাত্র ৮০ টাকা এবং আলট্রাস্নোগ্রাম মাত্র ১১০ টাকায় হয়ে যায়।
ফলে সকল পরীক্ষানিরীক্ষার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পড়ে। এক্ষেত্রে সরকার ও তার প্রতিষ্ঠান লাভবান হয়। অন্যদিকে দালালদের খপ্পরে পড়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করে নিঃস্ব হয়ে পড়ে রোগীরা। এতে উল্টো বদনাম হয় হাসপাতালের। বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা বিএম কলেজের ছাত্রী প্রভা হালদার বলেন, আমাকে ভুলভাল বুঝিয়ে সুখী নামে একটি মেয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছিলো। এমন সময়ে হ্যান্ডমাইকে শুনতে পেলাম কম খরচে সকল পরীক্ষা হাসপাতালে করা সম্ভব। একপর্যায়ে আমি হাসপাতালের দুইতলায় গিয়ে একাধিক রক্ত পরীক্ষা করে চিকিৎসা সেবা নেই। পাশাপাশি ইসিজি করতে মাত্র ৮০ টাকা লাগে তা আগে কখনও জানতাম না। পুষ্প নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মা বলেন, আমার মেয়ে জ্বরে ভুগছিলো। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষানিরীক্ষা করতে বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়েছিলাম। সেখানে পরীক্ষানিরীক্ষা বাবদ সবমিলিয়ে ৪০০০ হাজার টাকা দেওয়া লাগবে। টাকার অভাবে হাসপাতালে ফিরে আসি। পরে হ্যান্ডমাইকে শুনতে পাই সকল পরীক্ষানিরীক্ষা হাসপাতালের দুইতলায় করা হয়। একপর্যায়ে আমি হাসপাতালের দুইতলায় সকল
পরীক্ষানিরীক্ষা সম্পন্ন করি। এতে মাত্র ২০০০ টাকা খরচ হয়েছে। এমনকি সরবরাহ থাকার কারণে নিয়মিত হাসপাতাল থেকে ওষুধ পেয়েছি। এদিকে হাসপাতালে আসা রোগীরা মোমিনকে একরকম ভালো কাজের জন্য তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। যে কারণে ভালো কাজের ফলস্বরূপ মোমিনকে “রোগীদের প্রহরী” আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাতে কথা হলে হাসপাতাল কর্মচারী মোমিনুর রহমান খান বলেন, ” পরিচালক স্যারের নির্দেশে আমি রোগী ও স্বজনদের সচেতন করে থাকি। এসব কৃতিত্ব আমার নয়,স্যারের।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শিকদার মাহাবুব