এক ভিক্ষুকের ‘৯০০’ টাকা নিলেন ব্রাদার জাফর ও মোসলেম!

আপডেট: September 17, 2024

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক::বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হাবিব নামে এক ভিক্ষুকের কাছ থেকে ৯০০ টাকা  হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে  ব্রাদার জাফর ও মোসলেমের বিরুদ্ধে।

 

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগী ভিক্ষুক হাবিব হাসপাতাল সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ মোহাম্মদ মাহমুদ হাসানকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানান। সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ মোহাম্মদ মাহমুদ হাসান টাকা নেওয়ার বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্রাদার জাফর ও ব্রাদার মোসলেমকে তার কক্ষে ডেকে আনেন। প্রথমে অভিযুক্তরা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে সহকারী পরিচালক অপরাধ প্রমাণিত হলে তাদেরকে অন্যত্র বদলি করা হবে বলে শাসাতে থাকেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত জাফর ও মোসলেম নিজেদের ভুল হয়েছে মর্মে ওই ভিক্ষুকের কাছে ক্ষমা চায়। এমনকি ওই ভিক্ষুকের কাছ থেকে চিকিৎসার নামে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করে।

 

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী হাবিব বলেন, “আমি পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলাম। গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলায়। কিন্তু বরিশাল শহরের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকি। কয়েকদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আমার ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে মারাত্মক জখম হয়। এতে করে আমি রিকশা চালাতে পারছিলাম না। একপর্যায়ে রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করে চিকিৎসার জন্য ৯০০ টাকা সংগ্রহ করে হাসপাতালে আসি। এসময়ে হাসপাতালের বহিঃবিভাগ থেকে ১০ টাকা মূল্যে একটি টিকিট কিনি। কিন্তু ডাক্তার দেখানোর আগেই অপরিচিত  এক ব্যক্তি আমাকে মিনি ওটিতে নিয়ে যায়। মিনি ওটির দায়িত্বে থাকা ব্রাদার জাফর ও মোসলেম আমার কাছে চিকিৎসা খরচ বাবদ ১০০০ হাজার টাকা দাবী করে। আমি ভিক্ষা করে টাকা এনেছি বললেও তারা শুনেনি। পরে আমার পায়ের ক্ষত বেন্ডেজ করে দিয়ে তারা আমার কাছে থাকা ৯০০ টাকা নিয়ে যায়। এমনকি আমার কাছে থাকা টিকিটে কোনো ওষুধ লিখে না দিয়ে উল্টো সাদা একটি কাগজে কিছু ওষুধ লিখে দেয় ব্রাদার জাফর।

 

এরপর আজ মঙ্গলবার দুপুরে আমার পায়ের ড্রেসিং করাতে হাসপাতালে আসলে ব্রাদার জাফর ও মোসলেম ফের আমার কাছে চিকিৎসা খরচ বাবদ টাকা দাবী করে। পরে বিষয়টি আমি হাসপাতাল প্রশাসনকে জানাই।

 

 এদিকে হাসপাতাল বহিঃবিভাগের মিনি অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ ব্রাদার জাফর ও ব্রাদার মোসলেম বলেন, আমরা চিকিৎসা খরচ বাবদ ওই ভিক্ষুকের কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। তবে কেন টিকিট ও ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত তার ক্ষত স্থান বেন্ডেজ করেছেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রাদার জাফর বলেন, মানবিক কারণে তাকে টিকিট ব্যতীত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সাদা কাগজে চিকিৎসাপত্র কেন লিখে দিয়েছেন? এমন প্রশ্নের সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

 

অন্যদিকে হাসপাতাল সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ মোহাম্মদ মাহমুদ হাসান বলেন,”চিকিৎসার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ওই ভিক্ষুক আজ দুপুরে আমার কক্ষে এসেছিলেন। আমি অভিযুক্ত ব্রাদার জাফর ও মোসলেমকে ভিক্ষুকের টাকা ফেরত দিতে বলেছি। তাছাড়া পরবর্তীতে এসব ব্রাদারদের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শিকদার মাহাবুব