মাঝ নদী থেকে চলতি ফেরি নিয়ে গেলো কোস্ট গার্ড:ভোগান্তির শিকার মুমূর্ষু রোগীর পরিবার! 

আপডেট: November 19, 2024

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

 

বিশেষ প্রতিবেদক::

ভোলা ভেদুরিয়া থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া  কৃষ্ণচূড়া নামে একটি ফেরি নদীর মাঝপথ থেকে নিয়ে গেছে বরিশাল দক্ষিণ জোনের কোস্ট গার্ডের কতিপয় সদস্যরা। তবে ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এনডিসি সামছুজ্জামান বলেন, মুমূর্ষু রোগী ও ফেরিতে থাকা সাধারণ যাত্রী ও চালকরা যাতে ভোগান্তিতে না পড়ে সেসবের জন্য আমি

বিআইডব্লিউটিএর ম্যানেজারকে অবগত করেছিলাম। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএর ম্যানেজার আমাকে জানিয়েছেন,

কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে উল্টো পথে ফেরি না নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। কিন্তু  কোস্ট গার্ড সদস্যরা তার অনুরোধ প্রত্যাক্ষান করেছে।

 

এদিকে জানা গেছে, কোস্ট গার্ড সদস্যদের এমন কর্মকাণ্ডে  ভোগান্তিতে পড়েন মাথায় আঘাত লাগা মুমূর্ষু রোগী সোনিয়া ও ফেরিতে থাকা সাধারণ যাত্রী ও চালকরা। মুমূর্ষু রোগী সোনিয়া দৌলত খান উপজেলার মাঝেরহাট গ্রামের মাল বাড়ির বাসিন্দা শাহাবুদ্দিনের মেয়ে।

 

ফেরিতে ভোগান্তিতে পড়া মুমূর্ষু রোগী সোনিয়ার বাবা শাহাবুদ্দিন বলেন, আমার মেয়ের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগলে ভোলার চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে গতকাল সোমবার বিকেলে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে এম্বুলেন্স যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। ভেদুরিয়া ফেরিতে উঠলে তা বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু মাঝপথে ফেরিটি আটকে দেয় কোস্ট গার্ড সদস্যরা।

 

এসময়ে ফেরিতে থাকা একটি মিনি ট্রাক জাটকা মাছ বহন করছিলো। জাটকা মাছ বহনকারী মিনি ট্রাকটি ফের ভেদুরিয়া ফেরিঘাটে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা চালায় তারা। কিন্তু আমার পরিবার কোস্ট গার্ড সদস্যদের অনুরোধ জানাই যে,আপনারা লাহার হাট ফেরিঘাটে ফেরি পৌঁছলে সেখান থেকে ওই ট্রাকটি নিয়ে যাবেন। তাছাড়া এই ট্রাকটির সঙ্গে আপনাদের সদস্যরা থাকুক যাতে করে ড্রাইভার পালাতে না পারে।

 

এসময়ে সাধারণ যাত্রী ও চালকরাও নদীর মাঝপথ থেকে ফেরি উল্টো ঘুরিয়ে ভেদুরিয়া নিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করেন। কিন্তু কে শুনে কার কথা! জোর করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ফেরিটি উল্টোদিকে নিয়ে গেছে।

 

ফেরিতে থাকা ট্রাক চালক মিজান বলেন, কোস্ট গার্ড সদস্যদের এমন আচরণে সবার মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। আমরা গরীব মানুষ,আমাদের কথা শোনার মতো কেউ নেই।

 

মনপুরা থেকে আসা পর্যটক ফয়জুন্নেছা বলেন, কোস্ট গার্ড সদস্যদের এমন আচরণে আমরা অনেকেই ক্ষিপ্ত হয়ে যাই। একপর্যায়ে ফেরিতে থাকা কোস্ট গার্ড সদস্যদের সঙ্গে

 আমরা তর্কে জড়িয়ে পড়ি। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। ফেরিটি তারা উল্টো পথেই নিয়ে গেছে।

 

মাঝপথে ভোগান্তির শিকার কৃষ্ণচূড়া ফেরির মাষ্টার মোঃ মতিউর রহমান বলেন, ফেরি উল্টো পথে না নেওয়ার কারনে  কোস্ট গার্ড সদস্যরা আমার রুমের ভেতর প্রবেশ করে জোরে জোরে হাত চাপড়ে শাসাতে থাকে। আমি এসবের প্রতিবাদ করলে তারা আমাকে একপর্যায়ে গালমন্দ করে। একপর্যায়ে আমি তাদের ভয়ে ও নিরুপায় হয়ে ফেরি উল্টো পথে চালনা করতে বাধ্য হই। কিন্তু আমার ফেরির জ্বালানি তেল ও সময় দুটোই অপচয় হলো।

 

এদিকে বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনে (0 1769-443052)

 কথা হলে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া উইং বলেন,জাটকা মাছ বহনকারী গাড়ীটি লাহার হাট ফেরিঘাটে পৌঁছলে আমার হাতের নাগালের বাহিরে চলে যেতো। যেকারণে মাঝ নদী থেকেই ফেরি উল্টো পথে নেওয়া হয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ শিকদার মাহাবুব