আপডেট: November 28, 2024
শেরপুর প্রতিনিধি:: শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর গ্রামের মুর্শিদপুর খাজা বদরুদ্দোজা হায়দার ওরফে দোজা পীরের দরবার শরিফ ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই দরবারে হামলা চালানো হয়। সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ দরবারের নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিলেও জনস্রোতের কারণে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
দরবারের এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দরবারে লুটপাট চালানো হয়। গরু, মহিষ, ছাগল, দুম্বা, পুকুরের মাছসহ সব মালপত্র নিয়ে যায় বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে দরবারে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, প্রায় ১৫ কোটি টাকার মালপত্র লুট হয়েছে। দরবারের গাছ পর্যন্ত কেটে নিয়ে গেছে লোকজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভোরে ৪০০-৫০০ লোক দরবারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় দরবারের খাদেমসহ পীরের মুরিদদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। গুরুতর আহত লছমনপুর কান্দা শেরীরচর গ্রামের হাফেজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গত বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা আবারও দরবারে হামলা করে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় জমশেদ আলী কলেজ মাঠে নিহত হাফেজ উদ্দিনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা ভোর থেকেই মুর্শিদপুর দরবার শরিফ এলাকায় এবং কুসুমহাটি বাজার এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শক্ত অবস্থান নেন। কিন্তু বেশ কয়েকটি রাস্তা দিয়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন দরবারে ঢুকে হামলা করে।
মাদ্রাসা শিক্ষক তরিকুলের ভাষ্য, তাদের মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে হামলা চালানো হয় এবং হাফেজকে হত্যা করে পীরের লোকজন।
শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক জাবেদ হোসেন তারেক বলেন, আগুন নেভানোর জন্য তারা কুসুমহাটি বাজার পর্যন্ত এলেও নিরাপত্তার অভাবে তারা ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি।
সদর থানার ওসি জুবায়দুল আলম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






