আপডেট: November 28, 2024
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি:: ডিপিডিসির সিদ্ধিরগঞ্জ শাখার কম্পিউটার অপারেটর কাম কোঅর্ডিনেটর ১৪ বছর ধরে একই দপ্তরে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) নেটওয়ার্ক অপারেশন ও কাস্টমার সার্ভিস সিদ্ধিরগঞ্জ শাখার কম্পিউটার অপারেটর কাম কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত সুজন বিশ্বাস। তাঁকে ঘুষ না দিলে কোনো ফাইল খোলেন না। তাঁর বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। এলাকার ‘মাহাত্ম্যে’ তাঁকে কেউ একই দপ্তর ও পদ থেকে সরাতে পারেনি বলে জানা গেছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও বহাল রয়েছেন তিনি।
সূত্র জানায়, দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যিনি আসেন, তাঁকে ম্যানেজ করেই সুজন দীর্ঘ সময় একই দপ্তরে রয়েছেন। ডিপিডিসির সিদ্ধিরগঞ্জ শাখার অনেক কর্মচারী সুজনের কাছে জিম্মি। বিদ্যুতের জন্য নতুন আবেদন করা গ্রাহকদের ফাইল সুজনের কাছে অনলাইনের জন্য পাঠানো হয়। ফাইল প্রতি তিনি ৫০০-১০০০ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছেন খোদ নিজের দপ্তরের কর্মচারীদের কাছ থেকেও। ভুক্তভোগী কর্মচারীরা সুজন বিশ্বাস ও নির্বাহী প্রকৌশলীর ভয়ে তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব অভিযোগ করেন। যারা অভিযোগ করেছেন তারা কোম্পানির চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী। নাম প্রকাশ করলে তাদের চাকরি থাকবে না, এ জন্য বছরের পর বছর ধরে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি সহ্য করছেন বলে জানান তারা।
হিরাঝিল এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন লিটন, আজম বেপারি ও রাবেয়া আক্তার বলেন, কম্পিউটার অপারেটর সুজনকে ঘুষ না দিলে তিনি কোনো ফাইল ধরেন না।
মো. সালাউদ্দিন নামে এক গ্রাহক বলেন, সুজনের কাছে ফাইল গেলে তাঁর দাবি করা টাকা না পেলে তিনি অনলাইনে ফাইলের কোনো আপডেট করেন না এবং বিদ্যুতের ডিমান্ডনোটের কাগজ প্রিন্ট করেন না। প্রিন্টারে কালি নেই, কাগজ নেই, প্রিন্টার নষ্টসহ নানা অজুহাত দিয়ে ঘোরাতে থাকেন তিনি।
সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, সুজনের ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে যেসব নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন তাদের কাছেও অনেকবার অভিযোগ করেছেন, কিন্তু গোপলগঞ্জের লোক হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে তারাও কোনো ব্যবস্থা নেননি। এতে সুজনের সাহস বেড়ে যায় এবং ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যেতে থাকেন।
দুই মাস আগে সিদ্ধিরগঞ্জে কর্মরত একদল সংবাদকর্মী সুজনের ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত অধিকারীকে জানালে তিনি বলেন, সুজনসহ যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষ বাণিজ্যে জড়িত, তাদের দ্রুত এই দপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তিনি কোনো ব্যবস্থাই নেননি।
একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই দপ্তরে প্রতিদিন গড়ে নতুন বিদ্যুতের জন্য ৩০-৪০টি আবেদনপত্র জমা পড়ে। সুজনকে দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বিভিন্ন অনিয়ম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং সুজন যে ফাইল প্রতি ঘুষ আদায় করেন তার বেশিরভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত অধিকারীকে দিতে হচ্ছে। এ কারণে সুজনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে সুজন বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলবেন না বলে জানান। নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত অধিকারীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে বলেন, কত লোকে কত কথাই বলবে। সুজন বিশ্বাসের বিষয়ে তিনি বলেন, ম্যানেজমেন্ট ভালো জানেন কে কোথায় কত বছর রয়েছেন।
ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ নোমান বলেন, ১৪ বছর ধরে এক ব্যক্তি একই দপ্তরে রয়েছেন, এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ম্যানেজমেন্টেকে জানাননি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






