আপডেট: December 2, 2024
অনলাইন ডেস্ক::: গণমুখী রাজনীতি ও শৃঙ্খলা রক্ষার বার্তা
ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে ভারতীয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়। আগুন দেওয়া হয় হাইকমিশনের সাইনবোর্ডে। ‘হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি’র ব্যানারে সোমবার দুপুরে ওই হামলা চালানো হয়। এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এ হামলা ছিল পরিকল্পিত। শুরু থেকেই সক্রিয় ছিল না স্থানীয় পুলিশ। এ ঘটনায় গভীরভাবে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ।
ভারতের পশ্চিম উপকূলের রাজ্য মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কাছেও এদিন বিকালে কয়েকশ বিক্ষোভকারী বিক্ষোভ করেছেন। ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদের’ ব্যানারে ওই বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশ মিশনের দেড়শ গজের মধ্যে অবস্থান নেন। এদিকে ‘বাংলাদেশে ভারতীয় পতাকা অবমাননা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনে’র কথিত অভিযোগ তুলে ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে এদিন বিক্ষোভ করেছে রাজ্য বিজেপি। দলটির নেতারা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। বিক্ষোভ হয়েছে ফেনীর ওপারে বিলোনিয়া সীমান্তেও।
এদিকে ওই হামলার প্রতিবাদে রাতে ঢাকায় বিক্ষোভ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটে হামলা, সিলেট ও ফেনী সীমান্তে উগ্র ভারতীয়দের আক্রমণের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে ভাঙচুর ও জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের প্রতিবাদে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামের একটি সংগঠনের সভা ছিল আগরতলার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের সামনে। সভা শেষে সংগঠনের ছয়জনের একটি প্রতিনিধিদল হাইকমিশন কার্যালয়ের ভেতরে যায় স্মারকলিপি জমা দিতে। এ সময় বাইরে থাকা কিছু হিন্দু যুবক হঠাৎ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের ভেতরে ঢোকে। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। পরে হাইকমিশন কার্যালয়ের কিছু সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে ও আগুন লাগিয়ে দেয় তারা।
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি জানান, সহকারী হাইকমিশনে হামলা ও ভাঙচুরের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, গেরুয়া পতাকা এবং পট্টিধারী শতাধিক মানুষ বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে ঢুকে পড়ে। চত্বরে থাকা ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড থেকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। এ সময় পুলিশ তাদের থামানোর চেষ্টা করে। পরে হামলাকারীদের হাইকমিশন চত্বর থেকে বের করে দেয় পুলিশ। ঘটনাস্থলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএফএফ) সদস্যদেরও দেখা গেছে।
কূটনৈতিক রীতি-রেওয়াজ অনুযায়ী, সহকারী হাইকমিশন বাংলাদেশের সার্বভৌম সম্পদ। এর ভেতরে ভারতের আইনও প্রযোজ্য নয়। কূটনৈতিক দায়মুক্তি থাকায়, কোনো দেশের দূতাবাসে স্বাগতিক দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও প্রবেশ করতে পারে না।
সহকারী হাইকমিশনে হামলার পর সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হামলার শঙ্কায় রয়েছে দেশটিতে পড়াশোনারত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। তাদের ধারণা, ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত গুজবের জেরে ওই হামলা হয়েছে। এটিকে আরও উসকে দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ত্রিপুরা সরকারের পরিবহণমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর পোস্ট। ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ‘বাংলাদেশে আক্রান্ত কলকাতাগামী বাস, ভারতীয়দের দিল প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করে।
সূত্র জানায়, শনিবার আগরতলা থেকে ঢাকা হয়ে কলকাতার পথে চলা শ্যামলী পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ত্রিপুরার পরিবহণমন্ত্রী ও ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম এটিকে হামলা বলে দাবি করে। সুশান্ত চৌধুরী তার ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে বাসের ছবি পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ত্রিপুরা থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোডে আক্রান্ত হয়েছে শ্যামলী পরিবহণ। বাসটিকে দুর্ঘটনায় ফেলতে ধাক্কা দেয় একটি পণ্যবাহী ট্রাক। এতে একটি অটোর সঙ্গে বাসের সংঘর্ষ হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ভারতীয় যাত্রীদের ক্রমাগত হুমকি দেয়। ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়।
আখাউরা প্রতিনিধি জানান, কিন্তু বাসে কোনো হামলা হয়নি। বাসটির চালক আসাদুল হক বলেন, ভারতীয় যাত্রীদের সঙ্গেও স্থানীয় সাধারণ মানুষের কারও বাগবিতণ্ডাও হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বাসে হামলার খবর দেখে আমিও অবাক হয়েছি।
পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি বাংলাদেশের : সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারকে এ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে এবং ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করতে আহ্বান জানিয়েছে। ‘প্রাপ্ত তথ্য থেকে স্পষ্ট, বিক্ষোভকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সহকারী হাইকমিশনের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ পেয়েছেন। এ সময় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে তারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার খুঁটি ভেঙে ফেলেন, পতাকাকে অসম্মান করেন এবং প্রাঙ্গণের অভ্যন্তরীণ সম্পত্তি ভাঙচুর করেন’, বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
‘দুঃখজনকভাবে, হাইকমিশনের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য উপস্থিত স্থানীয় পুলিশ সদস্যদের শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।’ এ ঘটনার ফলে সহকারী হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত ২৮ নভেম্বর কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে ‘বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’ নামক হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননার ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞপ্তিতে সে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট করতে চায়, বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক মিশনের ওপর এ জঘন্য হামলা এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অসম্মান একটি ধারাবাহিক প্যাটার্নের অংশ। এ ঘটনা ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোমেটিক রিলেশনসের সরাসরি লঙ্ঘন।
‘বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারকে এ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে, ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করতে এবং ভবিষ্যতে ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের বিরুদ্ধে এমন সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, কূটনীতিক ও অ-কূটনৈতিক কর্মী এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।’
ভারতের দুঃখপ্রকাশ, ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার আশ্বাস : ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা চালানোর ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার মন্ত্রণালয়টির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী দূতাবাসে হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক। কূটনৈতিক এবং কনস্যুলার সম্পত্তি কোনো অবস্থাতেই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে সহকারী হাইকমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।
পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় বিজেপির বিক্ষোভ : ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুকে নিঃশর্ত মুক্তি, বাংলাদেশে ভারতীয় পতাকার অবমাননা এবং সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতন বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বনগাঁ মহকুমা বিজেপি। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি সভাপতি শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তি এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা না হলে সপ্তাহ শেষে ৫ দিনের জন্য আমদানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ২০২৫ সাল থেকে বাংলাদেশে আলু পেঁয়াজ ডিমসহ সকল প্রকার আমদানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ সময় তিনি সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সব ধরনের আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দেন।
সোমবার ভারতের পেট্রাপোল বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত জনসভায় বনগাঁ মহকুমা বিজেপির সভাপতি দেবদাস মন্ডলের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর, বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদার, উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া, কল্যাণীর অম্বিকা দাস প্রমুখ। জনসভায় হাবড়া, বারাসাত, নদীয়া, কল্যাণীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭-৮ হাজার বিজেপি কর্মী যোগ দেয়। মিছিলকারী বিশ্ব হিন্দু জোট গড়ে তুলতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। স্লোগানে তারা ইউনূস সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে পদত্যাগ দাবি করে। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে মিছিলকারীরা নোম্যান্সল্যান্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএসএফের বাধার মুখে মিছিলকারীরা পেট্রাপোল বন্দরের দিকে ফিরে যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, কেবলমাত্র পেট্রাপোল সীমান্তে নয়, বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে সীমান্ত এলাকায় এই বিক্ষোভ চলবে। বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলতে থাকবে।
মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ : মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কাছে সোমবার বিকালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কয়েকশ বিক্ষোভকারী বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বাংলাদেশ মিশনের প্রায় এক থেকে দেড়শ গজের মধ্যে এসে অবস্থান নেন। তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং ইসকন সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিবাদ জানিয়ে নানা স্লোগান দেন।
এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, মুম্বাইয়ে এদিন শতিনেক বিক্ষোভকারী আজাদ ময়দানে সমবেত হয়েছিলেন। পরে তারা সেখান থেকে সরে গিয়ে বাংলাদেশ মিশনের কাছে গিয়ে পথসভা করেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আয়োজনে ওই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের রাজ্য সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও বিশিষ্ট শিল্পপতি লোধা মঙ্গল প্রভাত।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ : এদিকে ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সোমবার রাত ৯টায় রাজু ভাস্কর্য থেকে এ বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন হাজারও ছাত্র-ছাত্রী।
বিলোনিয়া সীমান্তে ভারতীয়দের বিক্ষোভ : ফেনী প্রতিনিধি জানান, সীমান্তবর্তী পরশুরামের বিলোনিয়া স্থলবন্দরের ভারত অংশে বাংলাদেশবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। সনাতনী হিন্দু সমাজের ব্যানারে কিছু ভারতীয় নাগরিক রোববার বিকালে বিক্ষোভ করেন। রোববার রাত ১২টার দিকে বিলোনিয়া সীমান্তেও ওই বিক্ষোভের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার এ বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবি-৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাবিতে ছাত্র অধিকারের বিক্ষোভ : ঢাবি প্রতিনিধি জানান, সোমবার রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে যাত্রা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কজুড়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ শেষে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। মিছিলে ‘দূতাবাসে হামলা কেন? মোদি তুই জবাব দে, দিল্লি তুই জবাব দে’, ‘দিল্লির আগ্রাসন, রুখে দাও জনগণ; মোদির আগ্রাসন, রুখে দাও জনগণ’, ‘তুমি কে আমি কে? বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’, ‘দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা’, ‘র-এর কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘বিজেপির কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আরএসএসের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
সমাবেশে বক্তৃতা করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লাসহ কয়েকজন। বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, আগরতলায় বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলা করে বিজেপি বিশ্বের ইতিহাসে আজকে একটি নগ্ন ঘটনার জন্ম দিল। আজকে তারা প্রমাণ করে দিল তারা কতটা সভ্য জাতি। ভারতের মানুষের কাছে প্রশ্ন রাখছি. আপনারা এটা সমর্থন করেন কিনা?
বিন ইয়ামিন আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অনেকেই দেখেছে আর্মি বিজেপির লোকেরা হিন্দিতে কথা বলছে। যার থেকে প্রমাণ হয় এখানেও তাদের দুরভিসন্ধি ছিল। যেই দেশ সীমান্তে পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারে সেই দেশের সঙ্গে কোনো বন্ধুত্ব নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পরিষদ নেতা রাকিবুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনে ভারত মূলত এদেশকে তাদের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিল। ৫ আগস্ট যখন হাসিনা পালিয়ে গেছে তখন তারা বুঝতে পেরেছে তাদের হাত থেকে সোনার ডিম দেয়া হাঁস হাতছাড়া হয়ে গেছে। তাই এখন তারা পাগলা উন্মাদ হয়ে গেছে।






