আপডেট: November 6, 2026
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
শিক্ষক সংকট ও নানা অবকাঠামোগত সমস্যায় ধুঁকছে পটুয়াখালীর বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউট। প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুজন শিক্ষক রয়েছে এখানে।
এতে নিয়মিত ক্লাস ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে। নৈশপ্রহরী, পিয়ন ও বাবুর্চির মতো প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মচারী না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ও আবাসিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে জটিলতা। শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
অবিলম্বে বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষক সংকট দূরীকরণ, প্রয়োজনীয় সহায়ক জনবল নিয়োগ, আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং সার্বিক অবকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই নার্সিং ইনস্টিটিউটে ২০২৩ সাল থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। অথচ ১৭টি বিষয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কারিকুলামে পাঠদান পরিচালনার জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও ল্যাবভিত্তিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, তারা শুধু সার্টিফিকেট নিতে আসেননি, বাস্তব শিক্ষাকে সেবায় রূপান্তর করতে চান; কিন্তু শিক্ষকস্বল্পতায় তা ব্যাহত হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে তীব্র অবকাঠামোগত সংকট। প্রয়োজনীয় একাডেমিক ভবন, অডিটোরিয়াম, সাতটি আধুনিক ল্যাব, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, রান্নাঘর, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, নিরাপদ খাবার পানির ব্যবস্থা, ক্যাম্পাসে পাকা রাস্তা, মূল ফটকের সংস্কার এবং একটি শহীদ মিনারের অভাব রয়েছে। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বসার প্রয়োজনীয় আসবাব ও খেলাধুলার সরঞ্জামেরও ঘাটতি রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান মরিয়ম বেগম জানান, শিক্ষক সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। প্রতিষ্ঠানে একজন নৈশপ্রহরী নেই। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় এবং বাধ্য হয়ে নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকেও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তাঁকে।
তবে এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চলতি বছর ৭১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছেন, যার মধ্যে ২৩ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন।
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুরাইয়া ও সোনিয়া আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে আমরা সঠিকভাবে পড়ালেখা করতে পারছি না। ক্যাম্পাসে কোনো নৈশপ্রহরী বা পিয়ন নেই, ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আমাদের থাকতে হয়।
বাবুর্চি না থাকায় নিজেদের রান্না করে খেতে হয় এবং ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতার কাজও আমাদের নিজেদের করতে হয়। খেলাধুলার জন্য একটি ক্যারম বোর্ড পর্যন্ত নেই। এত সমস্যার মধ্যে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ বলেন, নার্সিং শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে শুধু শিক্ষার্থী ভর্তি করলে চলবে না; অবিলম্বে প্রয়োজনীয় শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব, প্রশিক্ষণ উপকরণ ও সহায়ক জনবল নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।






