আপডেট: November 5, 2026
রিপোর্ট, শিকদার মাহবুব::
বন্ধ স্কুলের তালা খুলে রাতের অন্ধকারে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষার উত্তরপত্রে জালিয়াতি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের নয়ানী গ্রামে এ ঘটনা ঘটলে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তরপত্রে জালিয়াতি করার অভিযোগ এনে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নয়ানী হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ করেন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন- চরকাউয়া নয়ানী হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন মনির, দপ্তরী রেজ্জাক হাওলাদার,নৈশ প্রহরী সাব্বির ও শিক্ষার্থী সাফা আক্তারের যোগসাজশে এসব উত্তরপত্রে জালিয়াতি করা হয়েছে।
পাশাপাশি এসব অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্ববায়ক কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির আহ্ববায়ক কমিটির সদস্য মাহমুদ হোসেন আশরাফ ও শাহালম,জালিয়াতিতে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আমরা শাস্তি দাবী করছি।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১ নভেম্বর) রাতে নয়ানী হাইস্কুলের বন্ধ তালা খুলে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষার উত্তরপত্রে জালিয়াতি করা হয়।
উত্তরপত্রে জালিয়াতি করে সাফা নামে এক শিক্ষার্থীকে পাশ দেখানো হয়। এমনকি জালিয়াত চক্র উত্তরপত্রে ওভাররাইটিং করে ১৪ জন শিক্ষার্থীকে পাশ ও ফেইল দেখায়। জালিয়াতির ঘটনা চেউর হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
একপর্যায়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন মনির স্থানীয়ভাবে লোক দেখানো সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে সমাধানের নামে আই ওয়াশ চলছে- বিষয়টি বুঝতে পেরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাতক্ষণিক বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে অবস্থা বেগতিক দেখে প্রধান শিক্ষক নৈশ প্রহরীকে দুই বছরের জন্য বহিস্কার করার ওয়াদা করেন। পাশাপাশি দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাফা আক্তারকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দিবেন বলেও আশ্বস্ত করেন, বিক্ষোভকারীদের।
বিষয়টি নিয়ে কথা হলে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন, রাতের অন্ধকারে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষার উত্তরপত্রে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছি। নৈশ প্রহরী সাব্বিরকে দুই বছরের জন্য বহিস্কার করা হবে। পাশাপাশি দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাফা আক্তারকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।
এদিকে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন মনির বলেন, পরীক্ষার উত্তরপত্রে জালিয়াতির বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার সমাধানের জন্য বসা হয়েছিলো। কিন্তু সমাধান হয়নি। তবে উত্তরপত্রে জালিয়াতির সাথে আমি জড়িত নয়।
অন্যদিকে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ ফরিদা সুলতানা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।
তবে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো: মামুন খন্দকার বলেন, পরীক্ষার উত্তরপত্রে জালিয়াতির বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হবে।






