বিকল ট্রলারে সাগরে ভাসছে ১৮ জেলে

আপডেট: September 23, 2026

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি:::
বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল সাগর। চলছে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত। এর মধ্যেই ট্রলারের পাখা ভেঙে চার দিন ধরে সাগরে আটকে আছেন ১৮ জেলে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের সোনারচরের দক্ষিণে রূপারচর সংলগ্ন সাগরে বিকল অবস্থায় ভাসছে মাছ ধরার ট্রলার এফবি তাওসীন।

এতে মালিকসহ ১৮ জন মাঝিমাল্লা রয়েছেন। উত্তাল সাগরে উদ্ধার অভিযানও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বুধবার বিকাল ৫টার দিকে প্রতিবেদনটি পাঠানোর আগমুহূর্ত পর্যন্ত বিকল ওই ট্রলারের মাঝিমাল্লাদের উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ট্রলারের মালিক হানিফ মাঝি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি নিজেও ট্রলারে রয়েছেন। মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তার।

হানিফ মাঝি বলেন, চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ ঘাট থেকে সাগরে মাছ ধরতে যান তারা। শনিবার মাছ ধরার পর রোববার ট্রলারের শেপের পাতা ভেঙে যায়। এরপর থেকে সোনারচর ও রূপারচরের মাঝামাঝি এলাকায় নোঙর করে আছেন।

বুধবার দুপুরে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থা খুব খারাপ এখন।’

জানা গেছে, ট্রলারটি বিকল হওয়ার পর রোববার থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন ছিল। ভাসতে ভাসতে রূপারচরের কাছাকাছি এলে মঙ্গলবার নেটওয়ার্ক পাওয়ার পর হানিফ মাঝি বিষয়টি জানান নিজ এলাকা হাজারীগঞ্জের জোবায়ের এন্টারপ্রাইজের মৎস্য আড়তদার ফরহাদ হোসেন পাটোয়ারীকে। পরে ফরহাদের ছেলে জোনায়েদ আল সাকি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে জেলেদের উদ্ধারের জন্য সহায়তা চান।

জোনায়েদ আল সাকি বলেন, মঙ্গলবার ৯৯৯-এ কল করার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। তবে বুধবার পর্যন্ত জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

Advertisement

আড়তদার ফরহাদ হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ৯৯৯-এ কলের পর নৌপুলিশ তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু বড় বোট না থাকায় তারা উদ্ধারে যেতে পারেনি।

বুধবার বিকাল ৩টা ৩৩ মিনিটে ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা এখন ট্রলার পাঠানোর ব্যবস্থা করতেছি। ট্রলারে তেল ভরছি। তাদের উদ্ধারে আমাদের ট্রলার যাবে। তবে বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে বোট পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ বলেও জানান তিনি। বিকল ট্রলারে থাকা জেলেদের খাবারের সমস্যা এখনো হয়নি।

রাঙ্গাবালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইলিয়াছ হোসেন মুন্সি বলেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় তারা এখনো উদ্ধার অভিযান চালাতে পারেনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

রাঙ্গাবালী নৌপুলিশের ইনচার্জ মোহাম্মদ যায়েদ বলেন, ট্রলারটি তাদের দায়িত্ব এলাকার বাইরে সাগরে থাকায় নৌপুলিশের বোট দিয়ে সেখানে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ নেই। তারা নদীতে ডিউটি করেন। বিষয়টি কোস্টগার্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর থানা, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্যজীবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিন নাম্বার সতর্ক সংকেত থাকায় সমুদ্র উত্তাল এবং স্থানীয় সক্ষমতায় উদ্ধার অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রলারটির সঠিক অবস্থান জানা গেলে উদ্ধার অভিযান সহজ হতো।

তিনি আরও বলেন, ওই ট্রলারের জেলেদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় এবং দ্রুত উদ্ধার করা যায়-সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
সম্পাদকঃ শিকদার মাহবুব