আপডেট: September 25, 2026
অনলাইন ডেস্ক:::
নাটোরে শিশুদের মধ্যে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বায়েজিদ বিন মাহমুদ (৭) নামে এক শিশুর ডান হাতের আঙুলের একাংশ কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে গ্রেফতার পুলিশ কনস্টেবল শাকিল হোসেন (৩৮) ও তার স্ত্রী নাছরিন খাতুনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
Advertisement
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের নাটোরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে আদালতের বিচারক মো. সাদ্দাম হোসেন তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোর শহরের বড় হরিশপুর পশ্চিম চেয়ারম্যানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে মামলা করেন।
আহত শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতার শাকিল হোসেন জয়পুরহাট জেলার সদর থানার নিজামপুর গ্রামের হামিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হিসাব শাখায় কর্মরত। এছাড়া ভুক্তভোগী বায়েজিদ নাটোর পুলিশ লাইনস স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কনস্টেবল শাকিল স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন। গত বুধবার রাতে শহরের চেয়ারম্যান রোড এলাকার ওই বাড়িতে ভাড়াটিয়ারা মিলে পিকনিকের আয়োজন করেন। সেখানে খেলাধুলার সময় কনস্টেবলের পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে ইবনাতের সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশু বায়েজিদের মনোমালিন্য হয়। পরে রাতেই বিষয়টি সব ভাড়াটিয়ারা মিলে মীমাংসা করে দেন।
কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার দায়িত্ব পালন শেষে ওই কনস্টেবল শাকিল বাসায় ফিরে বায়েজিদকে জোর করে তার বাসা থেকে ধরে নিজের বাসায় নিয়ে দরজা আটকে দেন। তারপর স্ত্রী নাছরিনের সহায়তায় শিশুটির ডান হাতের শাহাদাত আঙুল কেটে দেন তিনি। পরে শিশুটির আর্তনাদ শুনে অন্য ভাড়াটিয়ারা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়।
শিশুটির বরাত দিয়ে তার মা রাশেদা আক্তার জানান, খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে তরকারি কাটার বটি দিয়ে তার আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ঘটনার পর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন ওই কনস্টেবল। তিনি জানান, ওই শিশু তার মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছে।
Advertisement
খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় যায়। বাসায় তালা দেওয়া থাকায় পুলিশ তা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেঝে ও খাটের পাটাতনে রক্তের দাগ দেখতে পায়। মেঝের এক পাশে বিচ্ছিন্ন আঙুলের একটি অংশও পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানায়।






